বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মাদ


বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মাদ

লেখকঃ হিশাম আল আওয়াদি

অনুবাদকঃ মাসুদ শরীফ

ক্যাটাগরিঃ অনুবাদ, আত্ম-উন্নয়ন, ইসলাম, সীরাতে রাসুল সা.

প্রকাশের সালঃ ২০১৭

প্রচ্ছদ অলং‍করণঃ সালাহউদ্দিন জাহাঙ্গির

মূল্যঃ ২৫০

আইএসবিএন নংঃ 978-984-929559-5-2

সংস্করণঃ ২য়

মলাটঃ হার্ডকভার

জীবনে যারা বিশেষ কিছু হতে চান, এই বইটি তাদের জন্য। বইটির পরতে পরতে ‎রাসূল ‎ﷺ এর জীবনের এমন সব ঘটনা থাকবে, যেগুলো মানুষকে অনুপ্রেরণা দিবে দারুণভাবে। অবলীলায় তারা তাঁকে গ্রহণ করবেন অনুকরণীয় আদর্শ হিসেবে।
বইটিতে তাঁর নবী হওয়ার আগের জীবন বেশি গুরুত্ব পাবে। আমরা দেখব শিশুকাল থেকে কীভাবে তিনি নিজের ব্যক্তিত্বকে গড়ে তুলেছেন। টিনএজ বয়সের চ্যালেঞ্জগুলো কীভাবে মোকাবিলা করেছেন। তরুণ বয়সেই কীভাবে সমাজে নেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।
সাধারণত জীবনীগ্রন্থগুলোতে যেভাবে বিভিন্ন ঘটনা বর্ণনা করা হয়, এখানে ইচ্ছে করেই সেগুলো সেভাবে বর্ণনা করা হয়নি। এই বইয়ে আমাদের ভাষা অনেকটা ঘরোয়া। অনেকটা সাদাসিধা।
ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে ‎রাসূল ‎ﷺ এর ব্যাপারে যেসব জীবনী লেখা হয়, সেগুলোর বেশিরভাগে দুটো জিনিস হামেশা পাওয়া যায়; ‎রাসূলর ‎ﷺ ৪০ বছরের পরের জীবন আর পাঠকদের মধ্যে তাঁর ব্যাপারে সম্ভ্রম জাগানো।
কিন্তু এ ধরনের লেখনীতে তরুণ পাঠকেরা নিজেদের কমই খুঁজে পায়। বইগুলোতে তাঁকে এতটাই নিখুঁত পুরুষ হিসেবে তুলে ধরা হয় যে, অনুকরণীয় আদর্শ হিসেবে তাঁকে গ্রহণ করতে বেগ পেতে হয়। তরুণরা অনেক সময়ই তাদের জীবন ঘনিষ্ঠ সংকটের সাথে রাসূল ‎ﷺ জীবনী মিলিয়ে নিতে পারে না।
অথচ আল্লাহ রাব্বুল আলামীন খুব স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘আল্লাহর রাসূলের মাঝে তোমাদের জন্য আছে ভালো ভালো উদাহরণ।’ (৩৩:২১)
কিন্তু দুঃখের ব্যাপার হচ্ছে, ‎রাসূল ‎ﷺ এর সাথে মুসলিমদের সম্পর্ক যতটা কাছের হওয়া উচিত, ততটা হয় না।
শিশুরা কখনো কল্পনাও করতে পারে না তাদের প্রিয় রাসূল ‎ﷺ একসময় তাদের মতোই শিশু ছিলেন। তিনি খেলেছেন, দৌড়াদৌড়ি করেছেন। টিনএজাররা কখনো ভাবেই না যে, তারা যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখী হয়ে দিন পার করছে, ‎রাসূল ‎ﷺ কে ঠিক এমনই কিছু চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হয়েছে। আমাদের তরুণরা জানে না কীভাবে তিনি পরিবর্তনের সাথে খাপ খেয়ে নিয়েছেন, কীভাবে তিনি অচলবস্থার নিরসন করেছেন। এই বইয়ে শিশু মুহাম্মাদ, কৈশোরের মুহাম্মাদ এবং নবুওয়তের আগের যুবক মুহাম্মাদকে দেখবেন ইনশাআল্লাহ।
নিঃসন্দেহে তিনি আমাদের ভালোবাসা আর শ্রদ্ধার পাত্র। আমরা প্রিয় নেতাকে জীবনের চেয়েও ভালোবাসি। কিন্তু আমরা তাঁকে এমন সম্ভ্রম-জাগানিয়া নিখুঁত মানুষ হিসেবে তুলে ধরি যে, আমাদের সময়ে তাঁকে অনুসরণ করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। আমরা কেন যেন রাসূল ‎ﷺ কে কঠিন করে উপস্থাপন করতে চাই।
এই বইতে পাঠক তাঁর সম্পর্কে এক নতুন চিত্র পাবেন। তারা দেখবেন কীভাবে তিনি আমাদের মতোই, আমরা যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছি, সেগুলোর মোকাবিলা করেছেন। সেগুলোর মোকাবিলায় তিনি আমাদের অনুপ্রাণিত করবেন।
পাঠক আরও খেয়াল করবেন যে, এখানে নিজের জীবন উন্নয়নের ধাপগুলোর বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। চিরাচরিত বইগুলোর বর্ণনাভঙ্গীতে অনেক সময় মনে হয়, আমরা কী আর তাঁর মতো হতে পারব? এ ধরনের হীনমন্যতা দূর করে বাস্তব পদক্ষেপ দেখিয়ে দেওয়াই মূল উদ্দেশ্য।
পৃথিবীতে মানুষ যতটা নিখুঁত হতে পারে নিঃসন্দেহে ‎রাসূল ‎ﷺ তা-ই ছিলেন। কিন্তু এটা সত্য যে তিনি ছিলেন মানুষ। মানুষ হিসেবে অনেক সংকট ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন। এসব ইস্যুতে প্রিয় নবিজী আর আমাদের মাঝে দারুণ কিছু মিল আছে। আমরা সহজাত উপায়েই নবিজীকে অনুসরণ করতে পারি।
তাঁর ব্যাপারে আমি যেসব কাহিনির উল্লেখ করেছি, সেগুলো অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও প্রমাণিত দলিল থেকে নিয়েছি। অন্যান্য কিছু বইয়েরও সাহায্য নিয়েছি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
• আকরাম উমারি। আস-সীরাহ আন-নাবাউইয়াহ আস-সাহীহাহ (নবী মুহাম্মাদের নির্ভরযোগ্য জীবনী), ২য় খণ্ড।
• মাহদি রিযকুল্লাহ আহমাদ, আস-সীরাহ আন-নাবাউইয়া ফি দাও‘উল-মাসাদির আল-আসলিয়াহ (আদি উৎসের আলোকে ইসলামের নবীর জীবনী), ২য় খণ্ড।
আত্ম-উন্নয়নমূলক বিভিন্ন বইয়ের অনেক বিষয় আমি এখানে নিয়ে এসেছি। বিশেষ করে যেগুলো ইসলামের সাথে খাপ খায়, যেগুলো ‎রাসূলর ‎ﷺ জীবনে পাওয়া যায়। এগুলোর মধ্যে আছে সামাজিক বিচারবুদ্ধি, সৃষ্টিশীলতা, পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া, নেতৃত্ব বিকাশের মতো বিষয়গুলো।
চিরাচরিত জীবনীগ্রন্থের দৃষ্টিকোণ থেকে এই বইকে দেখটা ঠিক হবে না। এটা ঐ শ্রেণিতে পড়ে না। আবার ঠিক আত্ম-উন্নয়নমূলক বইও না। আমি এই দুই ধরনের এক অনন্য মিশেল তৈরি করতে চেষ্টা করেছি।



বইটির কয়েক পৃষ্ঠা পড়ুন


 Comments 7 comments

  • Hamid Hossain Mahdee says:

    নির্বাচিত রিভিউ: বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ (সঃ)
    লেখক: ড. হিশাম আল-আওয়াদি
    অনুবাদ: মাসুদ শরীফ
    রিভিউ লিখেছেন: Hamid Hossain Mahdee

    বই মানুষের মনের খোরাক। বিশেষ করে বইপোকাদের। রিভিউ লেখার আগে কয়েকটা অগোছালো কথা দিয়েই শুরু করি।

    মার্কাস টুলিয়াস সিসারো বলেছেন, “A room without books is like a body without a soul. অর্থাৎ বই ছাড়া একটি কক্ষ আত্মা ছাড়া দেহের মত। কেউ যদি আমাকে জিজ্ঞেস করে তোমার সবচেয়ে প্রিয় গিফট কী? অনায়াসেই বলবো, ‘বই’। সৈয়দ মুজতবা আলী বলেছেন, “রুটি মদ ফুরিয়ে যাবে, প্রিয়ার কালো চোখ ঘোলাটে হয়ে আসবে, কিন্তু বইখানা অনন্ত- যৌবনা- যদি তেমন বই হয়। তাই বোধ করি খৈয়াম
    তাঁর বেহেশতের সরঞ্জামের ফিরিস্তি বানাতে গিয়ে কেতাবের কথা ভুলেননি।”

    দি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ (সঃ) বইটিও আমার কাছে ‘অনন্ত-যৌবনা’ মনে হয়েছে। অনেকেই বলে থাকেন, রাসূল (সঃ) এর নবুওয়তের পরবর্তী জীবনটাই আমাদের জন্য একমাত্র আদর্শ। আসলেই পুরো জীবনটাই তো আদর্শ। বইটি পড়ে এখন একেবারেই ক্লিয়ার হয়ে গেলো। আল্লাহ পবিত্র কুরানে বলেছেন, রাসূল (সঃ) এর মাঝে তোমাদের জন্য আছে ভালো ভালো উদাহরণ। (৩৩:২১)।

    বইটি শুধু একজন সাধারণ পাঠকের জন্যই নয়। আপনি কি একজন সচেতন অভিভাবক? আপনি কি একজন কিশোর? আপনি কি একজন যুবক? আপনি কি একজন বৃদ্ধ? সফল একজন নেতা হতে চান? মানুষের মন জয় করতে চান সহজেই? জাস্ট বইটি একবার পড়ুন। রাসূল (সঃ) কিভাবে শিশুকাল, কিশোরকাল, যৌবনকাল, বৃদ্ধকালীন সময় কাটিয়েছেন তা নিপুণভাবে লেখক বইটিতে তুলে ধরেছেন। প্রতিটি অধ্যায়ের শেষে কিভাবে নিজের জীবনে তা বাস্তবায়ন করবেন তার ছোট্ট একটা ফর্মুলাও তুলে ধরেছেন।

    এটা কোনো সিরাত গ্রন্থ না। জাস্ট সংক্ষেপে রাসূল (সঃ) এর জীবনের কিছু চিত্র চিত্রায়ন করেছেন লেখক বইটিতে। আমরা অনেকেই জানি না, রাসূল (সঃ) এর দাদীর নাম, চাচা আবু তালিবের স্ত্রীর নাম কী ছিলো? তাদের কাছে শিশু মুহাম্মদ কেমন ছিলো? তারা কত্তো আদর করতো মুহাম্মদকে? এসব কিন্তু প্রায় সিরাত গ্রন্থে উল্লেখ নেই। বইটি পড়ুন, ভিন্নকিছু জানতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।

    বইটির অনুবাদ সম্পর্কে বলতে গেলে বলতে হয়, বইটি যতক্ষণ পড়ছিলাম মনে হচ্ছিল কারো সাথে কথা বলছি আমার মাতৃভাষায়। শ্রদ্ধেয় প্রিয় মাসুদ শরীফ ভাই সহজ, সরল ও সাবলীল ভাষায় অনুবাদ করেছেন। ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করবো না।বইটির প্রচ্ছদও অনেক আকর্ষণীয়।

  • Mahmud Hasan Cdcs says:

    বইঃ বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মাদ (সাঃ)
    লেখক: ড. হিশাম আল-আওয়াদি
    অনুবাদকঃ মাসুদ শরীফ
    প্রকাশনায়ঃ গার্ডিয়ান পাবলিকেশন
    পৃষ্ঠাঃ ১৪৪
    কভার মূল্যঃ ২৫০ টাকা
    রিভিউ লিখেছেন: Mahmud Hasan Cdcs
    ……………………………..

    পবিত্র রবিউল আওয়াল মাসে সীরাতুন্নবী (সাঃ) গ্রন্থ হিসেবে হাতে নিলাম বইটি। বইটির কলেবর সম্পর্কে অনুমান করেছিলাম ৩০০/৪০০ পৃষ্ঠা হবে- হাতে পেলাম ১৪৪ পৃষ্ঠার ছোট একটি পুস্তিকা! পড়া শুরু করতে গিয়ে পূর্বানুমানে আরেকবার ছেদ ঘটলো। প্রচলিত ধারার সিরাত গ্রন্থ না লিখে এখানে আনা হয়েছে প্যারেন্টিং, স্কিল ডেভলোপিং, ইনভাইরোনমেন্ট এ্যাডোপশনিং প্রভৃতি বিষয়ের আলোচনা যা আগ্রহ বিন্দুকে বাড়িয়ে দিয়েছে অনেকগুন।

    প্রথমেই প্রচ্ছদ প্রসঙ্গে বলি। কালো মলাটের উপর সোনালী অক্ষরে লেখা ‘বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মাদ (সাঃ)’। বামে সুশোভিত কারুকার্য। নিচের দিকে আরবি ক্যালিওগ্রাফি। সম্ভবত পবিত্র কা বা শরিফের গিলাফের কালো রং এবং এর গায়ে অংকিত কারুকার্যকে অনুকরণ করা হয়েছে। এক কথায় চমৎকার প্রচ্ছদ এটি।

    কোট টাই পড়া ছোট ছাটের দাড়িযুক্ত লেখক ড.হিশাম আল- আওয়াদির দিকে তাকিয়ে তার প্রফাইলের দিকে চোখ বুলালে পূর্বানুমান হয়ে যাবে যে বইটি কলেবরের চেয়েও বেশী আবেদনময়ী এবং উপযোগী। আসলে পশ্চিমা স্করালদের গবেষনা বিষয় যদি হয় ‘মুহাম্মাদ (সাঃ)’, তথ্য প্রবাহের ফল্গুধারা যে বইবেই, একথা হলফ করে বলা যায়।

    বইটির অধ্যায়ে ক্রমবিন্যাসেও বৈচিত্র আনা হয়েছে-
    ১.মুহাম্মাদ (সাঃ) শিশুকাল
    ২.রাসূল (সাঃ) এর পরিবার
    ৩.রাসূল (সাঃ) এর পরিবেশ
    ৪.মুহাম্মাদ (সাঃ) এর কৈশর
    ৫.তরুন মুহাম্মাদ (সাঃ)
    ৬.চল্লিশের কোঠায় মুহাম্মাদ (সাঃ)
    ৭.আপনার মিশন শুরু।

    বইটা মূলতঃ বয়স ভিত্তিক আত্ম উন্নয়ন মূলক চিত্রায়ন।
    প্রতিটি অধ্যায়ের বিষয়বস্তু এবং ক্ষুদ্র টপিক গুলো দেখলে এমনই মনে হবে। যেমন প্রথম অধ্যায়ের আলোচ্য গুলো নিম্নরুপঃ
    ১. মানসিক বিকাশ
    ২.ছয় বছরের নিচে বাচ্চারা
    ৩.ভালোবাসার চাহিদা পূরন
    ৪.সন্তানের উপর বালোবাসার প্রভাব
    ৫. কিভাবে শিশুর মানসিক চাহিদা পূরন করবেন?
    ৬. সন্তানের জন্য বাঁচা
    ৭. কিভাবে নিজের সন্তানকে অগ্রাধিকার দিবেন?
    ৮. বাচ্চার সাথে সময় কাটানোর ,মানে কি?
    ৯. মরু শিক্ষা
    ১০. মরু জীবন।
    ১১. মরু জীবন থেকে নিয়ে আসা মূল্যবোধ
    ১২. আত্মশৃঙ্খলার মূল্য
    ১৩. বাচ্চাদের শৃঙ্খলা শিখাবেন কিভাবে?
    ১৪. সামাজিক দক্ষতা শেখা
    ১৫. খেলাধুলার গুরুত্ব
    ১৬. ভাষা দক্ষতা
    ১৭. কিভাবে ভাষা দক্ষতা বাড়াবেন?
    ১৮. মার মৃত্যু
    ১৯. কিভাবে মোকাবেলা করবেন?
    ২০. মা হারানোর পর
    ২১. অপূর্ব বালক
    ২২. বাচ্চা কাচ্চাদের আত্মবিকাশ কিভাবে বাড়াবেন?
    দেখুন, ২২ টি টপিকের মধ্যে ১০ টিই উপদেশ মূলক যার মাধ্যমে প্যারেন্টিং, একোমোনডেশনিং প্রভৃতি আলোচিত হয়েছে।

    প্রতিটি অধ্যায়ের শেষে অথবা কোথাও মাঝে মাঝে তুলনা মূলক টেবিল সংযোজন বইটিকে অনন্য বৈশিষ্ট্য দান করেছে। প্রথম অধ্যায়ে মোট তিনটি চার্ট টেবিলের বিষয়বস্তু এমন
    # শিশুদের ১ বছর থেকে ৬ বছরের ব্যাপার গুলো
    # ৬ বছর পর্যন্ত শিশুর বেড়ে ওঠা
    # নবী মুহাম্মাদ (সাঃ) শৈশব থেকে পাওয়া শিক্ষা

    পারিবারিক জীবনের ভূমিকা ও গুরুত্ব বেশ জোড় দেয়া হয়েছে। প্রাসঙ্গিক কয়েকটি বিষয়ের ফোকাস দেয়ার প্রচেষ্টা লক্ষনীয়
    ১. বর্ধিত পরিবার
    বাবা, মা, সন্তান, দাদা-দাদী, চাচা, ফুফু এবং কাজিনদের সমন্বয়ে বর্ধিত পরিবারে সন্তান লালন পালনে পরিবারে সবাই কম বেশী ভূমিকা পালন করতে পারে। পরিবর্তন এর ঢেউয়ে এ জাতীয় বন্ধন এখন ঢিলে হয়ে গেলেও বৃটেনের একটি জরিপের রেফারেন্সে লেখকের আশাবাদ হচ্ছে সবাইকে বর্ধিত পরিাবার প্রথায় ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনাই প্রবল।

    ২. পারিবারিক ঐতিহ্য
    এ বিষয়ে অনেক আলোচনার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের অবতারনা করা হয়েছে। যেমন-
    – ব্যক্তির নয়, আদর্শের অনুসরন
    -মেহমানদারী
    -উপায় উপকরন যাই হোক, মনোবলের দৃঢ়তাই টিকে থাকার মূলমন্ত্র।

    ৩. নারী সদস্যের ভূমিকা
    প্রচলিত নবী কাহিনীতে পিতা, পিতামহ ও চাচার ভূমিকা আলোচিত হলেও নবী পরিবারের নারী সদস্যেদের ভূমিকা আলোচনা করা হয় নি তেমন ভাবে। এই বইটিতে রাসূল (সাঃ) এর পরিবারের পুরুষ সদস্যেদের পাশাপাশি নারী সদস্যদের ভূমিকাও সাবলীল ভাবে তুরে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি বউ শাশুড়ির অনিন্দ্য সম্পর্কও উল্লেখ করা হয়েছে রাসূল (সাঃ)-এর মাতা আমিনা ও দাদী ফাতিমা আমরের সম্পর্ক প্রতীয়মানের মাধ্যমে, যেটা অব্যহত ছিল পিতা আব্দুল্লাহ মৃত্যুর পরেও।

    ৪.পরিবারের সুব্যবহার/ সর্বোচ্চ ব্যবহারঃ
    রাসূল (সাঃ) এতিম ছিলেন; তবে একা ছিলেন না। তিনি শিখেছেন মায়ের কাছ থেকে ত্যাগ,
    বাবার কাছ থেকে ন্যায় পরায়নতা,
    দাদার কাছ থেকে হার না মানার মানসিকতা,
    বড়দাদার কাছ থেকে দানশীলতা।
    এজন্যই সন্তানকে ‘বংশগাছ’ দেখানোর আইডিয়া দেয়া হয়েছে, সাজেস্ট করা হয়েছে প্রযুক্তি ব্যবহারে যোগাযোগ রাখতে সর্বমান।

    রাসূল (সাঃ) সমাজ জীবনঃ
    ঐসময়কার সংক্ষিপ্ত সমাজচিত্র তুলে ধরে রাসূল সাঃ এর ভূমিকা নিয়ে লেখকের মন্তব্য দেখুন:
    ‘তিনি সেই সমাজ থেকে সরে পড়েন নি। কিন্তু খারাপ পথ থেকে ঠিকই দুরে থেকেছেন’
    এক্ষেত্রে আরও বলেছেন:
    ‘তবে সমাজ তাকে প্রবাবিত করতে পারেনি;
    বরং তিনিই তার পরিবেশকে নিয়ন্ত্রন করেছিলেন।’

    কিশোর বয়সে রাসূল (সাঃ) :
    এ বয়সে ভালোবাসার সাথে প্রয়োজন সম্মান ও স্থিতিশীল পরিবার। চাচা আবু তালিব ও তার চাচি ফাতিমা বিনতে আসাদের পরিবারের সাতজন সন্তানের একজন হিসেবে রাসূল (সাঃ) এর কৈশর সুন্দর ও সাবলীল ভাবে। এক্ষেত্রে লেখক ‘পিয়ার প্রেসার’ নামক মর্ডান টার্ম ব্যবহার করে বিবেক বুদ্ধি কাজে লাগানোর উদাহরন টেনেছেন। চাচার কাজে সহযোগিতার জন্য কিশোর বয়সে রাখাল হিসেবে কাজ করতে গিয়ে তিনি অর্জন করেছেন প্রচুর অভিজ্ঞতা। আর এ বয়সেই তিনি ১৫০০ কিলোমিটার দুরে সিরিয়ায় বানিজ্য সফরে গিয়ে বিভিন্ন মানুষ ও দর্শনীয় স্থানের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে টিনএজ বয়সের কঠিন সময় নিরাপদে পার করেছিলেন।

    তরুন বয়সে রাসূল (সাঃ)
    এ বয়সে রাসূল (সাঃ) উদয়ীমান তারকায় পরিনত হয়েছিলেন কাবাঘর নির্মানে কুরায়শদের মধ্যকার বিতন্ডা নিরসন করে। সততার সাথে ব্যবসা করে সবার নজড় কেড়েছিলেন।
    বন্ধু নির্বাচনে বৈচিত্রতা, চিন্তাবাবনা ও ব্যস্ত জীবন যাপন, সৃজনশীলতা ও ব্যক্তিত্ববোধ রাসূল (সাঃ) কে এগিয়ে দিয়েছেন অনেকগুন।
    *রাসূল (সাঃ) এর চল্লিশের কোটায় সূচিত পরিবর্তন গুলোয় মানিয়ে নেয়া আর পঞ্চাশের কোটায় নেতৃত্বের যে চিত্রায়ন করা হয়েছে তা সত্যি পড়া ও পালন করার মতো অনুপ্রেরনা মূলক।

    শেষ অধ্যায়:
    বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মাদ (সাঃ) বইটির অধ্যায়ের চমৎকার নাম দেয়া হয়েছে- ‘আপনার মিশন শুরু’
    লেখত বলতে চাচ্ছেন-রাসূল (সাঃ) কাহিনী মানুষের মনে শুধু সমীহ জাগাবে। ভক্তি বাড়াবে। কিন্তু এটাই আসল বিষয় নয়। এজন্য দুটো জিনিস দরকার-
    ১. নিজ কে বিকশিত করণ
    ২. সিরাতে রাসূল সাঃ নিয়ে অধ্যায়ন এদুটি মাধ্যমে নিজেদের দক্ষতা গুলোর বিকাশ করে Change Maker হিসেবে আর্বিভূত হতে হবে। সব মিলিয়ে বইটি আমাদের জ্ঞানের ক্ষুধা বাড়িয়ে দিতে পেরেছে বলে বিশ্বাস।
    ধন্যবাদ ড.হিশাম আল-আওয়াদি।
    ধন্যবাদ গার্ডিয়ান পাবলিকেশন।

  • Mohammad Ashfak Husaain says:

    [রিভিউ লেখক : মোহাম্মদ আশফাক হুসাইন ‎ ]
    বইয়ের নাম: বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মাদ ﷺ
    মূল লেখক: ড. হিশাম আল আওয়াদি
    অনুবাদকের নাম: মাসুদ শরীফ
    প্রকাশনী: গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্স Guardian Publications
    মুদ্রিত মূল্য: ২৫০ টাকা
    —————————————————————–
    বিসমিল্লাহ্‌
    রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে অনুসরণ করা, তাঁর জীবন সম্পর্কে জানা প্রত্যেক মুসলিমের ঈমানী দায়িত্ব।
    আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন,
    ‘আল্লাহর রাসূলের মাঝে তোমাদের জন্য আছে ভালো ভালো উদাহরণ।’ (৩৩:২১)

    সীরাত রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর জীবনের উজ্জল প্রতিচ্ছবি। সীরাত গ্রন্থ পাঠের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে না দেখেও তাঁর অসাধারণ জীবন সম্পর্কে বেশ সুন্দর ধারণা পাওয়া যায়। কিন্তু ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে রাসূল (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর ব্যাপারে যেসব জীবনী লেখা হয়, সেগুলোর বেশিরভাগে দুটো জিনিস প্রায়ই পাওয়া যায় একটি হল রাসূল (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নবুওয়াতী জীবন আর পাঠকদের মধ্যে তাঁর ব্যাপারে সম্ভ্রম জাগানো। এই রকম সীরাত গ্রন্থগুলোতে তরুণ পাঠকেরা নিজেদের কমই খুঁজে পায়। নিঃসন্দেহে তিনি আমাদের ভালোবাসা আর শ্রদ্ধার পাত্র। আমরা প্রিয় নেতাকে জীবনের চেয়েও ভালোবাসি। কিন্তু আমরা তাঁকে এমন সম্ভ্রম-জাগানিয়া নিখুঁত মানুষ হিসেবে তুলে ধরি যে, আমাদের সময়ে তাঁকে অনুসরণ করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে।

    পৃথিবীতে মানুষ যতটা নিখুঁত হতে পারে নিঃসন্দেহে রাসূল (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা-ই ছিলেন। কিন্তু এটা সত্য যে তিনি ছিলেন মানুষ। মানুষ হিসেবে অনেক সংকট ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন। এসব ইস্যুতে প্রিয় নবিজী আর আমাদের মাঝে দারুণ কিছু মিল আছে। শিশুরা কখনো কল্পনাও করতে পারে না তাদের প্রিয় রাসূল (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একসময় তাদের মতোই শিশু ছিলেন। একই ভাবে আমরা তরুণরা কখনো চিন্তা করি না যে, বর্তমান যুগে আমরা যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখী হয়ে দিন পার করছি, রাসূল (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও ঠিক এমনই কিছু চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করেছেন।

    ড. হিশাম আল আওয়াদি তার ‘Muhammad: How He Can Make You Extra-Ordinary’ বইয়ের মাধ্যমে এক নতুন ধারায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে উপস্থাপন করেছেন। আর এই বইটিরই বঙ্গানুবাদ হচ্ছে ‘বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম)’। বইটি পড়ে একজন পাঠক জানতে পারবেন কেমন ছিলেন শিশু মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম), কৈশোরের মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং নবুওয়তের আগের যুবক মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। বইটিতে একজন মানুষের জীবন উন্নয়নের ধাপগুলোর বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। বইটিতে আরো স্থান পেয়েছে সামাজিক বিচারবুদ্ধি, সৃষ্টিশীলতা, পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া, নেতৃত্ব বিকাশের মতো আত্ম-উন্নয়নমূলক বিষয়গুলো।

    লেখকের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি :
    ======================
    ড. হিশাম আল আওয়াদি জন্ম কুয়েতে। পড়াশোনা করেছেন ইতিহাস, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও যোগাযোগ বিষয়ে। অধ্যয়নের সময়টা কাটিয়েছেন ক্যামব্রিজ, এক্সেটারসহ আরো কয়েকটি ব্রিটিশ ইউনিভার্সিটিতে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি আর যুক্তরাজ্যের এক্সেটার ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনা করেছেন। তবে বর্তমানে আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অফ কুয়েতে ইতিহাসের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।

    একনজরে ‘বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মাদ ﷺ’ বইটি :
    ==================
    গ্রন্থটিকে মোট সাতটি অধ্যায়ে ভাগ করা হয়েছে। এখানে বিস্তারিত ভাবে যে সকল অধ্যায় আলোচিত হয়েছে সেগুলো হল:
    ১. মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর শিশুকাল
    ২. রাসূল (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পরিবার
    ৩. রাসূল (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চারপাশ
    ৪. মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কৈশোর
    ৫. তরুণ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
    ৬. চল্লিশের কোঠায় রাসূল (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
    ৭. পঞ্চাশের কোঠায় রাসূল (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
    বিস্তারিত গ্রন্থালোচনা :
    ===================
    ⚫ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর শিশুকাল :
    ————————————————————————————
    প্রথমেই লেখক ছয় বছর বয়স পর্যন্ত মুহাম্মাদ ﷺ এর শিশুকালের বিভিন্ন ধাপ এবং এগুলো থেকে আমাদের শিক্ষা তুলে ধরেছেন। শিশু মুহাম্মাদ ﷺ কে বড় করতে যেয়ে তাঁর মা ও দুধ-মা কী বিশাল ভূমিকা রেখেছিলেন এবং তাঁর শিশুকালের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আমরা কীভাবে শিশুদের বড় করতে পারি তা অনেক বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছেন লেখক। অধ্যায়টিতে আরো স্থান পেয়েছে কীভাবে শিশুর মানসিক চাহিদা পূরণ করবেন, কীভাবে নিজের সন্তানকে অগ্রাধিকার দেবেন এবং কীভাবে পরিবার শিশুর সাথে সময় কাটাবে। রাসূল ﷺ এর মরুজীবন ও মরুভূমি থেকে নিয়ে আসা মূল্যবোধ, ভাষা দক্ষতা এবং এরই সাথে সাথে আমরা কীভাবে শিশুদের শৃঙ্খলা শিখাবো, কীভাবে শিশুদের ভাষাদক্ষতা এবং আত্মবিশ্বাস বাড়াবো তা নিয়েও লেখক আলোচনা করেছেন।

    ⚫ রাসূল ﷺ-এর পরিবার :
    ————————————————————————————
    এই অধ্যায়ে লেখক রাসূল ﷺ এর বর্ধিত পরিবার অর্থাৎ তাঁর বাবা-মা ছাড়াও দাদা-দাদী ও চাচা-চাচী সম্পর্কে এবং পরিবারে তাদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেছেন। বেশিরভাগ সীরাহ বইগুলোতে তাদের ভূমিকা নিয়ে খুব সামান্যই কথা হয়েছে। তবে লেখক এখানে রাসূল (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর পরিবারের সদস্যদের খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন নি। বরং এখানে রাসূল (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া অংশগুলো যেগুলি আমাদের গড়ে ওঠায় সাহায্য করবে ঐসব বিষয়গুলো উল্লেখ করেছেন। লেখক রাসূল (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর পরিবারের সদস্যদের এমনভাবে তুলে ধরেছেন, মনে হবে পাঠক তাদের ব্যক্তিগতভাবে চেনেন।

    ⚫ রাসূল ﷺ-এর চারপাশ :
    ————————————————————————————
    কেমন ছিল রাসূল (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আশেপাশের পরিবেশ,কী কী প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হয়েছে তাঁকে এবং কীভাবে নিজেকে বিকশিত করেছিলেন। সমাজ নারীদের প্রতি ছিল নিষ্ঠুর। কিন্তু তা শর্তেও কেমন করে কিছু নারী সমাজে নিজেদের আলাদা অবস্থান তৈরি করে নিতে পেরেছিলেন। কীভাবে কিছু অনারব তাদের বিশেষ দক্ষতা ও প্রতিভার কারণে আরবদের সমাজে সফল হয়েছিলেন। মানুষ, পন্য আর কাজকর্মের এক রঙিন আনন্দবাজার ছিল সুক উকাজ। নোংরামি চলত পাল্লা দিয়ে আর এসব নোংরামিতে গা ভাসিয়ে দিত অনেকেই কিন্তু কীভাবে রাসূল (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিচক্ষণতার সাথে তা এড়িয়ে চলতেন এসবই লেখক অনেক সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন এই অধ্যায়টিতে।

    ⚫ মুহাম্মাদ ﷺ – এর কৈশোর :
    ——————————————————————————–
    লেখক এখানে আলোচনা করেছেন কিশোর বয়সে ঘরে বাইরে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর জীবন প্রণালি কেমন ছিল আর এই থেকে টিনএজ বয়সীরা কীভাবে আত্নবিশ্বাস মজবুত করতে পারে। অভিভাবক কীভাবে টিনএজদের ভালোবাসবে, সম্মান দেখাবে এবং তাদের সুস্থ বিবেক গড়ে তুলবে। মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কিশোর বয়স থেকে কীভাবে একজন কিশোর উপকৃত হতে পারে।

    ⚫ তরুণ মুহাম্মাদ ﷺ :
    ———————————————————————–
    এই অধ্যায়ে লেখক উপস্থাপন করেছেন ২০ ও ৩০ এর কোঠার তরুণ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে। মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর বাহ্যিকরূপ, তাঁর ব্যক্তিত্ব, সৃজনশীলতা এবং তাঁর বন্ধুবান্ধব এরই সাথে পারিবারিক জীবনে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং আমাদের শিক্ষা নিয়েও আলোচনা করেছেন লেখক।

    ⚫ চল্লিশের কোঠায় রাসূল ﷺ :
    ————————————————————————————
    এই অধ্যায়টি হচ্ছে চল্লিশের কোঠার রাসূল (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর জীবন নিয়ে। সেই সঙ্গে যারা তাঁর পাশে ছিলেন, তাদের অনুপ্রেরণামূলক কাহিনীগুলো নিয়েও। এই অধ্যায়ে আরো আলোচনা করা হয়েছে কোন কোন কারণ মানুষকে পরিবর্তনের জন্য তাড়া দেয়, রাসূল (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর ডাকে বদলে যাওয়া অনেক মানুষের কাহিনী, প্রথমদিকের মুসলিমদের মক্কায় অবতীর্ণ কুরআনের আয়াতগুলো কেমন করে নাড়িয়ে দিয়েছিল আর কেনই-বা মূর্তিপূজারীরা বদলাতে চায়নি।

    ⚫ পঞ্চাশের কোঠায় রাসূল ﷺ :
    ————————————————————————————
    এই অধ্যায়ে দেখা যাবে যুদ্ধ ও শান্তির সময়ে রাসূল (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নেতা হিসেবে কেমন ছিলেন। কীভাবে তিনি কোনো লোকের ব্যক্তিত্ব ও সংস্কৃতি অনুযায়ী তার সাথে আচরন করেছেন এবং রাসূল (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর মদিনার জীবন থেকে পাঠক কীভাবে নেতা হওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত হতে পারে। সেই নেতৃত্ব হতে পারে পরিবারের, কর্মক্ষেত্র বা যেকোন দায়িত্বে, এমনকি নিজের ওপরও।

    বইটির কিছু বিশেষত্ব :
    ====================
    ১. পাঠকের সামনে লেখক পর্যাপ্ত তথ্যসমৃদ্ধ আলোচনা এবং নির্ভরযোগ্যতার সর্বোচ্চ মানদণ্ড রক্ষা করে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র সীরাতকে একটু নতুন ধারায় উপস্থাপন করেছেন।
    ২. প্রতিটি অধ্যায় শেষে ছক আকারে অধ্যায়ের সংক্ষিপ্তসার তুলে ধরা হয়েছে।
    ৩. উন্নত কাগজ, স্পষ্ট ছাপা আর আকর্ষণীয় প্রচ্ছদের জন্য প্রশংসা করতেই হয়।

    মন্তব্য:
    ========
    আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কেমন ছিলেন তা আমরা সবাই কমবেশি জানি। কিন্তু কোথাও বলা হয় না কীভাবে তিনি তা হলেন, দেখানো হয় না আমাদের সময়ে কীভাবে আমরা উনার পথরেখা অনুসরণ করব। এই বক্ষ্যমাণ বইটি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর অনুসরণ এবং পাঠকে তাঁর কাছাকাছি নিয়ে যতে অনেকখানি অনুপ্রেরণা যোগাবে বলে আমি মনে করি। সবশেষে লেখক,অনুবাদক এবং বইটির সাথে সম্পৃক্ত সবাইকে আল্লাহ উত্তম প্রতিদান প্রদান করুন। আলহামদুলিল্লাহ, রিভিউটি সমাপ্ত হলো।

  • ‎Mahmudul Helal Shirazi‎ says:

    “বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ (স:)” এমন একটা বই যার প্রতিটা অধ্যায় নিয়ে আমার আলোচনা ও সমালোচনা দুটাই আছে। কিন্তু ওভাবে আলোচনা করতে গেলে লেখাটা অনেক বড় হয়ে যাবে। তাই যত অল্প কথায় লেখাটা সাজানো যায়, সেই চেষ্টা করবো। প্রথমেই বলে রাখি, এ বইটা পড়ার আগে আমাকে এর উপর অনেকগুলো সমালোচনা পড়তে হয়েছিলো। যেই সমালোচনাগুলো পড়ার পর বইটা পড়তে আরো আগ্রহী হই।
    ,
    নাম শুনে রাসূলের কোন সিরাত গন্থ মনে হলেও, যারা এ বই প্রকাশ করেছে তারা নিজেরা একে কোন সিরাত গ্রন্থ বলেনি। এটা ছিল শুধু একটা আত্মউন্নয়নমূলক বই। কিন্তু এ বই থেকে আমি রাসূলের জীবনের এমন অংশ নিয়ে বিস্তারিত জানতে পেরেছি, অন্যান্য সিরাত গ্রন্থগুলোতে সেগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা পাইনি। আরো অবাক হওয়ার বিষয় হলো, এসব বিষয়ে জানতে আমার মধ্যে এর আগে কোন তৃষ্ণাও জন্ম নেয়নি। যদিও এগুলো ছিলো, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ বই থেকে আমি জানতে পেরেছি, রাসূলের পরিবারের অন্যান্য মহিলা সদস্যদের ব্যাপারে। যাদের নাম এর আগে আমি জানতাম না। মা আমেনার মৃত্যুর পর রাসূল (স:) তার দাদা আব্দুল মুত্তালিবের বাড়িতে লালিত-পালিত হন। আমাদের অধিকাংশই আব্দুল মুত্তালিব সম্পর্কে জানলেও তার স্ত্রী রাসূলের দাদীর নাম খুব কম জনই জানি। তার দাদা আব্দুল মুত্তালিবের মৃত্যুর পর রাসূল তার চাচা আবু তালিবের বাড়িতে লালিত-পালিত হন। আমরা কজন আবু তালিবের স্ত্রী রাসূলের চাচীর নাম জানি? অথচ তাকে বড় করতে এ দুজন সৌভাগ্যবতীর অবদান অনেক। এমনকি তারা রাসূলকে এতটা আদর-যত্ন-ভালোবাসা দিয়ে বড় করেছিলেন যে, রাসূল (স:) কখনো মায়ের অভাব অনুভব করেননি।
    .
    লেখক ‘হিশাম আল-আওয়াদী’ রাসূলের জন্ম থেকে নবুয়ত প্রাপ্তির আগ পর্যন্ত সময়টাতে আশ-পাশের পরিবেশ-পরিস্থিতি-মানুষগুলো সম্পর্কে সহজ ভাষায় বিস্তারিত আলোচনা করতে সক্ষম হয়েছিলেন। যেগুলোর বিরাট বড় অবদান ছিল, রাসূল (স:) এর সুষ্ঠ মানুসিক বিকাশ ও যোগ্য নেতা হিসেবে গড়ে উঠতে। যদিও এগুলো ছিল বিশেষভাবে রসূলের জন্য আল্লাহর রহমত। তিনি বর্তমান যুগের পিতা-মাতাকে উৎসাহিত করেছেন, যেন তারাও তাদের সন্তানদের জন্য এমন পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করে। একজন সন্তানের বেড়ে উঠায় শুধুমাত্র তার বাবা-মার অবদানই থাকেনা। তার আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশি, পরিবেশ-পরিস্থিতি, বন্ধু-বান্ধব, শিক্ষক, স্কুল সবকিছুরই অবদান আছে।
    .
    সেই যুগে বিধবা-বিবাহ খুবই স্বাভাবিক একটা বিষয় ছিল। কিন্তু মা আমিনা তার স্বামীর মৃত্যুর পর আর বিয়ে করেননি। লেখক বলেছেন, মা আমিনা সন্তানের আদর যত্নে যেন কোন বেঘাত না ঘটে, সেজন্য বিয়ে করেননি। লেখকের বর্ননা ভঙ্গীও সন্তানের জন্য বিধবাদের বিয়ে না করাকে উৎসাহিত করে। কিন্তু ইসলাম কখনো বিধবাদের সন্তানের জন্য বিয়ে করতে অনুৎসাহিত করেননি। এমনকি ইসলাম প্রাপ্তবয়স্ক যে কোন পুরুষ-মাহিলাকে জীবনের যে কোন সময়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য অবিবাহিত অবস্থায় থাকতে অনুৎসাহিত করেছেন। মা আমিনার বিয়ে না করার বিষয়টা আমাদের থেকে ভিন্ন। কারন, দার সন্তান হতে যাচ্ছে, সর্বশেষ নবী ও রাসূল। তার মাধ্যমেই ঘটতে যাচ্ছে, পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিপ্লব। যেই বিপ্লবের রেশ পৃথিবী কেয়ামত পর্যন্ত কাটিয়ে উঠতে পারবেনা।
    .
    নবুয়তের আগ পর্যন্ত ৪০ বছর আল্লাহ তায়ালা রাসূল (স:) কে এক মহান দায়িত্বের জন্য প্রস্তুত করেছেন। নবুয়ত পরবর্তী জীবন নিয়ে এত বেশি লেখালেখি হয়েছে যে, আমার কাছে নতুন করে বলার মত কিছু নেই। লেখক হিশাম আল আওয়াদীও লিখেছেন। কিন্তু নবুয়তের আগের জীবন নিয়ে গবেষনাধর্মী লেখা লিখে নতুন কিছু জানার সুযোগ করে দিয়ে আমার চিন্তার খোরাক জোগাড় করায়, তার কাছে বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ।

  • Resme kakoli says:

    বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মাদ
    লেখকঃ ড. হিশাম আল-আওয়াদি
    অনুবাদকঃ মাসুদ শরীফ
    প্রকাশকঃ গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্স
    গায়ের মূল্যঃ ২৫০ টাকা

    বইটি কেমন, কেনার পূর্বে সুযোগ হয়নি জানার। অনলাইনে এর বিজ্ঞাপন দেখে কিনেছি মাত্র। না, বিজ্ঞাপন দেখে আকৃষ্ট হয়নি। আকৃষ্ট হয়েছি এর নাম দেখে- “বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মাদ”। নামটি দেখে যে ভাবনার উদয় হলো- এ যুগের সাথে সে যুগের কিছু একটা মেলবন্ধন নিশ্চই।

    বই পর্যালোচনাঃ
    শিশু মুহাম্মাদ থেকে আমাদের নবী মুহাম্মাদ (স.) এর বেড়ে ওঠা সমাজের অন্য দশজন সাধারণ মানুষের মতই। লেখক তার গ্রন্থে এই বিষয়টি অত্যন্ত চমৎকার ভাবে তুলে ধরেছেন। শিশুকাল থেকে মুহাম্মাদ (স.) কে বড় করতে যেয়ে তার পরিবার কী কী ভূমিকা রেখেছেন এবং সেই অভিজ্ঞতার আলোকে আমাদের অভিভাবকগণ তাদের বাচ্চাদের কিভাবে গড়ে তুলবেন সে সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। এখানে বাচ্চাদের ব্যক্তিত্ব, মানসিক বিকাশ, তাদের সাথে সময় কাটানো, মূল্যবোধ, ও ভাষা দক্ষতা প্রতিটি বিষয়ের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। সাধারণত বাচ্চাদের ব্যক্তিত্ব গড়ে ওঠে প্রথম ছয় মাস থেকে। তাই শুরু থেকেই বাচ্চাদের এইসব বিষয়ের প্রতি সতর্ক থাকা প্রয়োজন।একজন সন্তানের জন্য পরিবারের সান্নিধ্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ, জীবনের মোড় ঘুরানোর ক্ষেত্রে একটি পরিবারের অবদান কতটুকু সে বিষয়ে তুলে ধরা হয়েছে এখানে। শুধু তাই নয়, টিনেএজদের মধ্যে থাকে অনেক প্রাণশক্তি ও অফুরান সম্ভাবনা কিন্তু সেগুলো বিকশিত হবে না, যদি তারা এমন পরিবেশ না পায় যেখানে তাদের কদর বুঝা হয়, তাদের বিশ্বাস করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় লেখক এখানে তুলে ধরেছেন টিনেএজদের সাথে ব্যবহার সম্পর্কে এবং আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলা প্রসঙ্গে।

    অন্য শতাব্দীগুলোর সাথে একুশ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় পার্থক্য দ্রুত পরিবর্তনশীলতা। টেলিফোন থেকে মোবাইল, এনসাইক্লোপিডিয়া থেকে উইকিপিডিয়া, ইটপাথর মার্কেট থেকে অনলাইন শপিং আরও কত কি! যে কারণে পরিস্থিতির দাবি মেনে বদলে যাওয়া আর মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা। এই দক্ষতাকে কিভাবে অর্জনে রুপান্তর করা যায় মহানবী (স.) এর জীবনের আলোকে, তা আমরা এই গ্রন্থে দেখতে পাই। “চিরাচরিত নেতারা নজর দেন ভূমিকা আর দায়িত্বের উপর। নতুন নেতারা গড়ে তোলেন মানবিক সম্পর্ক যেটা হয়ে উঠে সাফল্যের আসল শক্তি”। এমনটাই বলেছেন মার্গারেট হুইটলি তার “Leadership & the new science ” বইতে, যা অনেক পূর্বেই আমাদের নবী মুহাম্মাদ (স.) করে গিয়েছেন মদিনা সংবিধানের মাধ্যমে এবং এই গ্রন্থে অতি সূক্ষ্মতার সাথে তুলে ধরা হয়েছে রাসূল (স.) এর নেতৃত্ব থেকে আমাদের নেতৃত্বের শিক্ষা।

    বই সম্পর্কিত কিছু কথাঃ
    ৭টি শিরোনামের আলোকে সাজানো বইটি। প্রতিটি শিরোনাম ভিত্তিক লেখার সমাপ্তিতে লেখক তা আবার ছক আকারে তুলে ধরেছেন অতি চমৎকার ভাবে। কোনো ব্যক্তি যদি শুধুমাত্র ছকগুলোও পড়েন, বই সম্পর্কিত যথেষ্ট ধারণা রাখতে পারবেন।

    সবশেষে বলতে চাচ্ছি, বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মাদ গ্রন্থটি আমাদের নবী হযরত মুহাম্মাদ (স.) এর জীবনের অভিজ্ঞাতার আলোকে আমাদের জীবন গড়ে তোলার একটি সুন্দর দিকনির্ভর ও অনুপ্রেরণা যোগাতে সহায়ক হবে বলে মনে করি।

    ধন্যবাদ।

  • Abdullah Al Noman says:

    বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ (সঃ) ও কিছু কথাঃ

    অনেক দিন থেকে পড়ার ইচ্ছা থাকলে ও কোন না কোন কারণে পড়া হয়ে ওঠে নি।আজ হঠাৎ এক বড় ভায়ের মাধ্যমে আল্লাহ্‌ সুযোগ করে দিলেন।

    আমি কখনো বইয়ের রিভিউ লিখি না।আর সাধারণত এ বিষয়ে আমার তেমন কোন ইচ্ছা ছিল না বললেই চলে।কিন্ত ভাইয়ের ইচ্ছায় এবং বিশেষ কিছু কারণে ভাবলাম কিছু একটা লেখার চেষ্টা করব।

    আমরা মুলত যে সিরাহগুলো বাংলাতে বাজারে পাই সেগুলোর বেশির ভাগ নবী( সঃ) ঘটানাগুলো ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করা থাকে।আমি বেশির ভাগ সময় দেখেছি নবী (সঃ) কে নিয়ে যখন আলোচনা হয় তখন আমরা তার (সঃ) ঘটনাগুলো শুনে মুগ্ধ হয় এবং সুবহানআল্লাহ বলে চেচিয়ে উঠে এবং আবেগে লোম খাড়া হয়ে যায়,অশ্রু সংবরণ করতে পারি না।কিন্ত ওই সব ঘটনার যখন আমরা সম্মুখীন হয় তখন আমরা নবী (সঃ) থেকে কোন শিক্ষাই কাজে লাগায় না।তাহলে ওই যে একই প্রেক্ষাপটে একটু আগে সুবহানআল্লাহ বললাম তার সাথে সংঘর্ষিক হয়ে গেল না।আমরা শুধু পড়ে যাই বা শুনেই যাই সেগুলো নিজ জীবনে প্রয়োগ করি না। এমনকি সেই ইচ্ছা ও জাগে না।

    তবে এই বইটা পড়ার পর মনে হলে সিরাহকে অন্যভাবে পড়া যায়। লেখক এখানে সুন্দর ভাবে দেখিয়ে দিয়েছেন কিভাবে নবী (সঃ) এর গুণগুলো নিজের জীবনে প্রয়োগ করা যায়। নবী (সঃ) শিশু কাল থেকে শুরু করে তার বেড়ে ওঠা। এতে তার পিতা-মাতা,আত্মীয়-স্বজন,পরিবার এর ভূমিকা।,ব্যক্তিত্ব বিকাশে সহায়তা।কৈশরে তার পদার্পণ, তারপর যৌবনে এবং সামাজিক কাজে অংশগ্রহণ, বিবাহ,নবুওয়াত,হিজরত, বিভিন্ন যুদ্ধ, মক্কা বিজয় এগুলোর গতানুগতিক কোন বর্ণনা না দিয়ে এগুলো থেকে শিক্ষা বের করে বর্তমান সময়ে আমরা কিভাবে কাজে লাগাতে পারি সেই বিষয়টা আমার খুব ভাল লেগেছে।

    বইটির লেখকের ঘটনাপ্রবাহ বর্ণনা করার চিরাচরিত ধারা থেকে বেরিয়ে সংক্ষেপে ঘটনা থেকে শিক্ষা বের করে নিয়ে আসা এবং অনুবাদকের প্রাঞ্জলতাপূর্ণ অনুবাদ বইটিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
    বিঃদ্রঃ-তবে কিছু জাগয়ায় বেশেষ করে খাদিজা (রঃ) এর ব্যবসা নিয়ে। লেখক একটু প্রমোট করার চেষ্টা করেছে বলে মনে হয় বা এমতাবস্থায় এটিকে পুজি করে নারীদের বাইরে চাকরি বা ব্যবসাকে উদ্বুদ্ধ না করলে ও নিরুৎসাহিত করা হয়নি।আর আরকি বিষয় হল তিনি মদীনা সনদের দোহায় দিয়ে নিজ মতাদর্শ ঠিক রেখে অমুসলিমদের বন্ধু গ্রহন উদ্বুদ্ধ করেছেন।
    অথচ আল্লাহ বলেনঃ হে মুমিনরা তোমরা ইহুদি ও খ্রিষ্টান দের বন্ধুরূপে গ্রহন কর না। যদি তোমরা তাদের বন্ধুরূপে গ্রহন কর তাহলে তোমরা তাদেরই অন্তর্ভূক্ত হবে।আল্লাহ জালেমদের পথ প্রদর্শন করেননা।(সূরা মায়িদা-৫১)
    তবে এই বই নিয়ে আগ্রহ হারায় বিভিন্ন ভায়ের সমালোচনার কারণে তবে আল্লাহ পড়ার তৌফিক দেয়ার পর একটা কথা বলা জরুরি মনে করছি তা হল আমরা মানুষ ভুল থাকতেই পারে। কিন্ত এই ভুল ধরার নামে হেয় প্রতি প্রতিপন্ন করা,অপরকে মোডারেট, খারেজি, ওয়হাবী ট্যাগ করার এই সংস্কৃতি থেকে কবে বেরিয়ে আসব।মুমিনরা একে অন্যের আয়না।আমাদের কি উচিত ছিল না ভুলগুলো ভালবেশে ধরিয়ে দিয়ে বইটার প্রয়োজনীয় দিকগুলো তুলে ধরা।আমাদের মধ্যে কবে এই সহনশীলতা আসবে কবে জানি।আমরা কেন ভুলে যায় যে যে মতের উপর আছে তা যত ভুল ই হোক তাকে ভালবেসে না বুঝায়ে শুধু ভুল ধরে বিভিন্ন ট্যাগ দিলে তার সংশোধন তো হয় না। বরং শত্রুতা বাড়ে।তাহলে কারো সংশোধন যদি মুখ্য উদ্দেশ্য হয় তার সম্মান নিয়ে এত টানাটানি কেন? তাহলে তার বিরোধিতা ই কি একমাত্র কারণ!!

  • Leave a Reply

    Your email address will not be published. Fields with * are mandatory.

    গার্ডিয়ান পাবলিকেশন © ২০১৭-১৯
    Developed by: Al-Amin Firdows