বিয়ে


বিয়ে

লেখকঃ রেহনুমা বিনতে আনিস

ক্যাটাগরিঃ পারিবারিক জীবনবিধান, বিয়ে

প্রকাশের সালঃ ২০১৭

প্রচ্ছদ অলং‍করণঃ মোঃ আলেক হোসাইন

মূল্যঃ ২৫০

আইএসবিএন নংঃ 978-984-92959-6-9-4

সংস্করণঃ ২য়

মলাটঃ হার্ডকভার

যা থাকছে বিয়ে বইয়েঃ
– প্যাকেট না প্রোডাক্ট?
– ভালো জামাই পাবার বুদ্ধি
– তুমি ছিলে গো মোর প্রার্থণায়
– বিয়েঃ একটি উত্তম বন্ধুত্ব
– বিয়ে না হলে নাইবা হলো
– অনেক কিছুই আসে যায়
– প্রতিটি ফোঁড়েই জীবন
– যেমন কর্ম তেমন ফল
– হঠাৎ বিয়ে
– স্বপ্নভঙ্গ
– মহাকাব্য
– এপার ওপার
– প্রত্যুষের প্রত্যাশা
– মিথ্যা
– আলোর দিশা
– একজন বেহেস্তী নারী
– যুদ্ধ
– অমানুষ
– ব্যাথা
– প্রশান্তি
– পরিচয়
– অনন্ত পথের সাথী
বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের অনেক প্রশ্ন, দ্বিধা, সঙ্কট নিয়ে বইটিতে আলোচনা করা হয়েছে। গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্স সময়ের দাবী মেটাতে এই বইটি পাঠকদের হাতে তুলে দেয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। আশা করছি, আপনারা আমাদের সাথে থাকবেন। বইটি গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্স থেকে পুনঃমূদ্রিত হচ্ছে।



বইটির কয়েক পৃষ্ঠা পড়ুন


 Comments 2 comments

  • Ariful islam says:

    বই রিভিউ : বিয়ে
    লেখিকা: রেহনুমা বিনত আনিস
    —————————————————
    রিভিউ লেখক: আরিফুল ইসলাম
    বইয়ের নাম: বিয়ে
    লেখিকাঃ Rehnuma Bint Anis
    প্রকাশনী: গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্স Guardian Publications
    মুদ্রিত মূল্য: ২৫০ টাকা।
    —————————————————-

    বই পড়ার জন্য আমার প্রিয় জায়গা রেস্টুরেন্ট । ২১ তলার উপরে নিরবে নির্বিঘ্নে বই পড়া যায়, সাথে ইচ্ছামতো চা-কফি খাওয়া তো যায়ই। নিচ থেকে যানবাহনের কিছুটা টুংটাং আওয়াজ আসে, বই পড়তে ক্লান্তি লাগলে রেস্টুরেন্টের ছাদের উপর থেকে আলোয় জ্বলমল ঢাকা শহর দেখে অবসাদ মিলে। তাই বই পড়ার জন্য রেস্টুরেন্টই আমার প্রিয়।

    তার ওপর এই বইটা ক্লাসে গিয়ে, লাইব্রেরিতে নিয়ে কিংবা রুমে বসে যে পড়বো সেটাও করা সম্ভব হয়নি। একটু পর পর একেকজন বইয়ের কাভার আর নাম দেখে হাতে নিয়ে জিজ্ঞেস করে, “বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছো নাকি?”

    কারো বিয়ের খবর শুনলেই প্রথমে মনে প্রশ্ন জাগে, ‘কনে দেখতে কেমন?’ কিংবা ‘বর কি করে?’
    অথচ বৈজ্ঞানিক-অবৈজ্ঞানিক সমস্ত জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, বৈবাহিক জীবনে সুখের ক্ষেত্রে সৌন্দর্যের ভূমিকা বড়জোর ছ’মাস থেকে একবছর। আর অনেক ধনী মানুষ মুহূর্তে সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন এমন উদাহারণও আছে।

    অথচ ক্ষণস্থায়ী এই দুটো গুণ কিভাবে বিয়ের মতো একটা চিরস্থায়ী বন্ধনের মূল ক্রাইটেরিয়া হয়? যেখানে ছেলের চরিত্র, মেয়ের চরিত্র উপেক্ষা করে বাহ্যিক গুণগুলো প্রাধান্য লাভ করে এমন একটা সম্পর্কের ক্ষেত্রে যে সম্পর্ক সম্পর্কে বলা হয়েছে ‘পোশাকস্বরূপ।’

    এমন অনেক সুন্দরী বউ আছে যার চাহিদা পূরণের জন্য স্বামীকে ঘুষ খেতে হয়। আর এমন অনেক দাড়ি-টুপিওয়ালা স্বামীও আছেন যারা সুন্দরী স্ত্রীকে প্রদর্শনীর সামগ্রীতে পরিণত করে রাখেন । এটিকে কি ভালোবাসা বা পারিবারিক সম্প্রীতি বলা যায়?
    অথচ অনেক দরিদ্র পরিবারেও দেখা যায়, বড় মাছ এনে স্বামী-স্ত্রী মিলে গল্প করতে করতে কাটান, সেখানে ‘প্রেমের উৎসব’ বয়ে যায়।

    কনের পিতা কন্যার বিয়ের দিন সবকিছু উজার করে কন্যাকে দিতে চান । সব ভালোবাসা যে বিয়ের দিনই দিয়ে দিতে হবে এমন তো কোনো কথা নাই । আর যে বরপক্ষ বিয়ের আগেই যৌতুক তথা ‘উপহার সামগ্রী’ চেয়ে কনের পিতাকে হেনস্তা করে ফেলে, বিয়ের পর সেই ঘরে মেয়ে কতোটাই বা সুখী হতে পারবে? এইসব প্রশ্নের উত্তর কনের বাবাকে মেয়ে বিয়ে দেবার আগেই হিসেবে মিলাতে হবে, চোর পালালে বুদ্ধি বাড়তে পারে কিন্ত কন্যাকে একবার বিয়ে দিলে সেই চোর পালানোর পর বুদ্ধি আর কোনো কাজে আসবেনা ।

    বিয়ের পর আমাদের দেশে একটা প্রচলিত অভ্যাস দেখা যায় স্ত্রীর নামের শেষে স্বামীর নাম জুড়ে দেওয়া কিংবা স্ত্রীর নামের আগে মিসেস বলে স্বামীর নাম লাগানো (যেমন :মিসেস রহমান) ।
    অথচ পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো স্বামী হিসেবে পরিচিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিসালাম এর স্ত্রীদের নামের সাথে কি এমন বলা হয় মিসেস আয়েশা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহিসালাম ? বরং তাঁর নাম বিয়ের আগে পরে আয়েশা বিনতে আবু বকরই ছিলো ।
    স্বামীর সাথে সম্পর্ক একটা শব্দ তিনবার উচ্চারণ করলে পরিবর্তন হয়ে যায়। কিন্ত বাবার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন হয়না।

    এই অনুচ্ছেদটি লেখিকা অনেক সুন্দর একটা শিরোনামে লিখেছেন, ‘অনেক কিছু আসে যায়।’

    বইটির মোট অনুচ্ছেদ ২২ টি। প্রথম ৮ টি অনুচ্ছেদ লেখিকার বিভিন্ন অভিজ্ঞতা নিয়ে। পরের ১৪ টি অনুচ্ছেদ বিয়ে নিয়ে কয়েকটি সুন্দর গল্প নিয়ে। অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখা অনুচ্ছেদগুলোর শিরোনামও চিত্তাকর্ষক ।

    লেখিকার আগের একটা বই পড়েছিলাম ‘নট ফর সেল’ নামে। বইটার নাম যেমন চিত্তাকর্ষক বইয়ের শিরোনামও ছিলো চিত্তাকর্ষক (যেমন : আমার মা কেন বিশ্বসুন্দরী নয়?) । এই বইটার অনুচ্ছেদের শিরোনামগুলোও আমার ভালো লেগেছে ।
    যেমন :
    প্যাকেট না প্রোডাক্ট?
    ভালো বর পেতে হলে
    তুমি ছিলে গো মোর প্রার্থনায়
    বিয়ে না হলে নাইবা হলো
    অনেক কিছু আসে যায়
    প্রতিটা ফোঁড়েই জীবন
    প্রত্যুষের প্রত্যাশা।

    শেষের দিকে গল্পগুলো স্রেফ গল্প নয়, আমাদের সমাজের বাস্তবতা । কখনো বউ-শ্বাশুড়ির দা-কুমড়ো সম্পর্ক। কখনো আবার বউ-শ্বাশুড়ির মিষ্টি সম্পর্ক, বউমাকে নিজের মেয়ের মতো আগলিয়ে রাখার সম্পর্ক। আবার কখনো স্বামীর পরকীয়ার সম্পর্ক নিয়ে লেখিকা এখানে স্ত্রীর ভূমিকা কি হওয়া উচিত ছিলো সেটাও গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন ।

    কিছু বই আছে যেগুলো বিপ্লব আনতে পারে । বিয়ে বইটাও আশা করি বিপ্লব আনবে । বিয়ে নিয়ে সমাজের কুসংস্কারগুলো দূর হবে, প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া স্বত্তেও ছেলেদেরকে বিয়ে দিতে বাবা-মা দ্বিমত করবেনা, পাত্র-পাত্রী নির্বাচনেও বস্তুকেন্দ্রীক মনোভাবের পরিবর্তন আসবে ।

    সর্বোপরি সমাজের মধ্যে বিয়ে প্রথা যেরকম হওয়া উচিত সেরকম হওয়ার পথে বইটা পাথেয় হতে পারে এই আশা করি।

  • kamrul hasan says:

    বিয়ে
    রেহনুমা বিনতে আনিস
    প্রকাশনী :- গার্ডিয়ান পাবলিকেশন
    দাম :- ২৫০/-

    যুব সমাজের জন্য বিয়ে আসলেই হট কেক। ধরুন আপনি বিয়ে নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দিছেন, সেখানে অন্য যে কোন বিষয়ে স্ট্যাটাসের চেয়ে ৫/৬ গুন বেশী লাইক ও কমেন্ট পাবেন। তার মানে বিয়ে নিয়ে যুবকদের মধ্যে একটা টান বা আকাংক্ষার আছে এটা প্রমাণিত।
    বিয়ে জীবন চক্রের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিয়ের মাধ্যমেই দুজন নর-নারী পূর্ণতা লাভ করে। অথবা আপনি বলতে পারেন, স্বপ্ন পূরণের দায়িত্ববোধের নাম বিয়ে। বিয়ে তো সেই চুক্তি, যার মধ্য দিয়ে সমাজব্যাবস্থা পুরুষকে একজন নারীর সাথে অতি ঘনিষ্টভাবে বসবাস, সুখ-দু:খ, হাসি-কান্না ও দৈহিক চাহিদা ভাগাভাগি করে নিতে স্বীকৃতি দেয় এবং উত্তরাধিকারের নিশ্চয়তা দেয়।

    যে সমাজে বিয়ে কঠিন হয়ে যায় সে সমাজে পাপ সহজ হয়ে যায়। ইসলামে সঙ্গী নির্বাচন বাবামা এবং সন্তানের যৌথ প্রযোজনার বিষয়।

    আল্লাহ বাবামাকে তিনটি দায়িত্ব দিয়েছেন – সন্তানের উত্তম নাম রাখা, সন্তানকে আল্লাহর বিধিনিষেধ শিক্ষা দেয়া, সন্তানকে উপযুক্ত বয়সে বিয়ে দেয়া।

    ভাবছিলাম রাসূল (সা)এর সুন্নাহ অনুযায়ী ছেলেমেয়েকে অল্প বয়সে বিয়ে দেব। সংসার করার জন্য নয়, প্রেম করার জন্য। ওরা আমাদের সাথে থাকবে, লেখাপড়া করবে, পড়ায় একে অপরকে সহযোগিতা করবে, পার্কে যাবে, বাদাম খাবে, হাত ধরে হাঁটবে – সচরাচর প্রেম করার সময় মানুষ যা করে – কিন্তু বৈধ উপায়ে।
    কিন্তু কথাটা যত জনের সাথেই আলাপ করেছি, অধিকাংশেরই প্রতিক্রিয়া দেখে অবাক হয়েছি যেন এ’ এক অভিনব ভাবনা! অনেকেই হাসে, কেউ কেউ লেখাপড়ার প্রয়োজনীতার প্রতি লক্ষ্য রাখার উপদেশ দেয়, কেউ কেউ বাস্তবতার প্রতি নির্দেশ করে বলে, ‘বিয়ে করলে খাওয়াবে কি?’ সব মিলিয়ে কেন যেন মনে হয় সন্তানের চরিত্রের চেয়ে সন্তানের লেখাপড়া অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তার আখিরাতের চেয়ে তার দুনিয়া অনেক বেশি জরুরী।
    খুব সুন্দর করে সমাজের নানা অসংগতি ও মানুষিক হীনমন্যতাকে অতি সাধারণ কিন্তু অতুলনীয়ভাবে তুলে ধরেছেন লেখিকা।খুবই দরকারী একটি বই। সবার পড়া প্রয়োজন।

    কামরুল হাসান
    উত্তরা,ঢাকা।

  • Leave a Reply

    Your email address will not be published. Fields with * are mandatory.

    গার্ডিয়ান পাবলিকেশন © ২০১৭-১৯
    Developed by: Al-Amin Firdows