মুক্তিযুদ্ধের বয়ানে ইসলাম


মুক্তিযুদ্ধের বয়ানে ইসলাম

লেখকঃ পিনাকী ভট্টাচার্য

ক্যাটাগরিঃ মুক্তিযুদ্ধ ও ইসলাম

প্রকাশের সালঃ ২০১৭

প্রচ্ছদ অলং‍করণঃ রিফাত হাসান

মূল্যঃ ২৫০

আইএসবিএন নংঃ 978-984-92959-7-6

সংস্করণঃ ২য়

মলাটঃ পেপারব্যাক এবং হার্ডকভার বাইন্ডিং

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আমাদের দেশে একটা বয়ান হাজির আছে। সেই বয়ানে ইসলাম অনুপস্থিত। আমাদের বিশ্বাস করতে বাধ্য করানো হয়েছে ইসলাম মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষিতে অপ্রাসঙ্গিক ছিল। এভাবেই তৈরি হয়েছে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহ্য আর হেরিটেজের নির্মান।

ঐতিহ্য বা হেরিটেজ আসলে ঐতিহাসিকভাবে নির্মিত এক একটি ডিসকোর্স বা বয়ান। অর্থাৎ ইতিহাসের হাত ধরে গড়ে ওঠে এমন একটা চলতি বয়ানই হচ্ছে ঐতিহ্য বা হেরিটেজ। এই ঐতিহ্যকে আমরা কোন সচেতনতা ছাড়াই বহন করি, তার উৎস বা কার্যকারন না জেনেই। রোলা বার্তে তার মিথোলজিস বইয়ে বলেছেন, আমরা যেই বাস্তবতার মধ্যে বসবাস করি তার জমিনটা তৈরি করে দেয় ইতিহাসের কোন বয়ানের মধ্যে আমরা বাস করি তা।

মুক্তিযুদ্ধে আমাদের লড়াই হয়েছিল পাকিস্তানি শাসকদের বিরুদ্ধে জাতীয় আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার অর্জনের জন্য। পাকিস্তানি শাসকেরা ইসলামের নাম নিয়ে তাঁদের গণহত্যা জায়েজ করতে চেয়েছে। আবার সেইসময়ের কয়েকটা ইসলামপন্থী দল মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী অবস্থান নেয়ার জন্য এইদেশের বাম ও স্যেকুলারপন্থীরা মুক্তিযুদ্ধকে ইসলামের প্রশ্নে বুর্জোয়া ফয়সালা হিসেবে উপস্থাপন করতে চেয়েছে। কিন্তু আসলে মুক্তিযুদ্ধের নির্মানে, মুক্তিযুদ্ধের পরিচালনায় ইসলাম ছিলো প্রাধান্য বিস্তারকারী বয়ান। মুক্তিযুদ্ধকে স্বাধীন বাঙলা বেতার ‘আল্লাহর পথে জেহাদ’ বলে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। মাঠের মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণা ছিল ইসলাম, তারা শক্তি নিয়েছে ইসলামের ন্যারেটিভ থেকে। স্বাধীন বাঙলা সরকারের বক্তব্য বিবৃতিতে ইসলাম ডমিন্যান্টভাবে বর্তমান ছিলো। দেওবন্দী ধারার আলেমরা দেশে এবং বিদেশে এমনকি খোদ পাকিস্তানে বসে কেউ মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সহমর্মিতা, আর কেউ আন্তর্জাতিক সংহতি সৃষ্টিতে ভুমিকা নিয়েছেন। দেশের আলেমদের অনেকেই সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছে। তাঁরা সবাই এই লড়াইকে জালিমের বিরুদ্ধে মজলুমের লড়াই বলেই অভিহিত করেছেন।

পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনকে আমাদের স্যেকুলার বয়ানে দেখা হয়েছে একটি প্রতিক্রিয়াশীল ঘটনা হিসেবে। অথচ পাকিস্তান সৃষ্টি এই অঞ্চলের অন্যতম প্রগতিশীল উল্লম্ফন। সেই পাকিস্তান তার জন্মের দায় শোধ করতে পারেনি জন্যই বাংলাদেশের সৃষ্টি। কিন্তু পাকিস্তান আন্দোলনের মধ্যে থেকে ইসলাম নিজ পরিচয়ের সঙ্গে লেপ্টে কীভাবে এই জনগোষ্ঠির আর এক অন্যতম পরিচয় বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠলো সেটা কখনো খতিয়ে দেখা হয়নি। একটা জনগোষ্ঠি, চলার পথে লড়াই সংগ্রামের ইতিহাস, তাৎপর্যকে কীভাবে তার ‘পরিচয় বৈশিষ্ট্য’ হিসাবে সাথে লেপ্টে নিয়ে চলে সেটাও আমরা অনুধাবন করার চেষ্টা করিনি। ঠিক কীভাবে এই অঞ্চলের মানুষের মননে ও গঠন-তন্তুতে ‘ইসলাম’ এক বিশেষ অর্থে আর তাৎপর্যে স্থায়ী আসন নিয়ে নেয়; সেই তালাশ কেউ করেনি। কারণ তাহলেই আমাদের প্রগতিশীল মহল হৈ হৈ রৈ রৈ করে উঠবে। সেকারণেই মুক্তিযুদ্ধকে সেই জমিদারি উচ্ছেদের লড়াইয়ের পরিণতি পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মের ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় দেখার কোন সচেতন চেষ্টাও হয়নি।

৭১ এর বাংলাদেশ যে সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারতো সেটা করতে না দিয়ে ইসলামের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের একটা কৃত্রিম বিরোধ লাগিয়ে রেখেছে এই স্যেকুলারেরা। এই বই সেই কৃত্রিম বিরোধের ধুলা কালি সরিয়ে মুক্তিযুদ্ধের এক নতুন বয়ান উপহার দেবে। মুক্তিযুদ্ধের স্যেকুলার বয়ানের কফিনে এই বই হয়ে উঠবে শেষ পেরেক। কোন কিছুই রেফারেন্স ছাড়া দাবী করা হয়নি এই বইয়ে। বইটি আপনারা হাতে পাবেন সামনের মাসের প্রথম সপ্তাহেই। আরেক ইন্টারেস্টিং জার্নিতে আপনাকে স্বাগতম।



বইটির কয়েক পৃষ্ঠা পড়ুন


 Comments 3 comments

  • Muhammad Tanjim Farhat says:

    বুক রিভিউ : মুক্তিযুদ্ধের বয়ানে ইসলাম
    লেখক : পিনাকী ভট্টাচার্য
    প্রকাশনী : গার্ডিয়ান পাবলিকেশন
    রেটিং : ৫/৫
    ধরন : ইসলাম ও বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ!
    রিভিউ লিখেছেন:Muhammad Tanjim Farhat

    ৯ টি মাস এদেশের সাধারণ মানুষের রক্ত,ঘাম, পরিশ্রম, সম্ভ্রম, অর্থ ও ত্যাগের বিনিময়ে যেই মুক্তি, যেই স্বাধীনতা আমরা পেয়েছি তাই তো ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ। আজ আমরা যারা নবীন তারা যুদ্ধ দেখিনি কিন্তু আমাদের ও ৭১ নিয়ে জ্ঞানের অভাব নেই, আমরা ও গবেষণা করি, আমরা আমাদের চেতনা রক্তে ধারণ করি।
    কিন্তু যেই চেতনা রক্তে ধারণ করি তা কতটুকু শুদ্ধ? কতটুকু ইতিহাস নির্ভর?
    ভেবে দেখেছি কি?

    মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আমাদের দেশে একটা বয়ান হাজির আছে। সেই বয়ানে ইসলাম অনুপস্থিত। আমাদের বিশ্বাস করতে বাধ্য করানো হয়েছে ইসলাম মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষিতে অপ্রাসঙ্গিক ছিল। মুক্তিযুদ্ধ শুধুমাত্রই জাতিগত মুক্তির লক্ষ্যেই সম্পাদন হয়েছিল। কিন্তু আরেকটি জিনিস অলিখিত ই থেকে গেল…

    ইসলামের নামে পাকিস্তান তৈরি হলেও এই পাকিস্তান সরকার এর মুনাফিকি এদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ বুঝে গিয়েছিল ততদিনে। কিন্তু ধর্মকে ব্যবহার করেই অধর্ম করতে পাকিস্তান সরকার পিছপা হয়নি। বাঙালীদের দমন পীড়ন শুরু হয়ে গেল সব ক্ষেত্রে এবং অনিবার্য ফলাফল হিসেবে ৭১-এর আগমন। শুরু হলো ইসলামের নাম দিয়ে গণহত্যা। সেই সময়ের কয়েকটি ইসলামপন্থী দল স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নেয়ার ফলে সেক্যুলারপন্থীরা মুক্তিযুদ্ধকে ইসলামের প্রশ্নে বুর্জোয়া ফায়সালা হিসেবে উপস্থাপন করতে চেয়েছে। কিন্তু বাস্তবে মুক্তিযুদ্ধের নির্মাণে ও পরিচালনায় ছিল ইসলামের বয়ান।

    মুক্তিযুদ্ধকে আল্লাহর পথে জেহাদ বলে হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল বাড়িয়েছে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র। মাঠের মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণা ছিল ইসলাম, শক্তি নিয়েছে ইসলাম থেকেই। আলেম সমাজের একটা বড় অংশ মুক্তিযোদ্ধা সক্রিয় অংশ নিয়েছে এবং জনমত গড়েছে। শুধু বাংলাদেশের আলেম-ই নয়, পাকিস্তানি অনেক আলেম ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিলেন।

    অথচ আমাদের অনেকটা জোর করে এই বিশ্বাস করানো হয়েছে ইসলামি চেতনা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতিশব্দ। ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কখনোই এক ধারায় চলতে পারে না। কারণ, ইসলামী রাষ্ট্র থেকে প্রাপ্ত জুলুম নির্যাতনের ফলেই পাওয়া স্বাধীনতা। কিন্তু কখনোই তা গবেষণা হয়নি কীভাবে ইসলাম এই দেশের জনগোষ্ঠী লড়াই এর প্রেরণা হয়ে উঠল, কীভাবে মানুষের মনন ও গঠন তন্তুতে ইসলাম স্থায়ী আসন নিয়ে তার কারণ কেউ কোনো দিনও তালাশ করেনি; বরং মুক্তিযুদ্ধ ও ইসলামের মধ্যে কৃত্তিম বিরোধ লাগানোতেই সদা তৎপর ছিল বিশেষ এক গোষ্ঠী। ইতিহাসের সেই অব্যক্ত কথা গুলো অনুসন্ধান ও গবেষণার মধ্য দিয়েই পিনাকী ভট্টাচার্য যেই সত্য উন্মোচনের যাত্রা শুরু করলেন তা তো মাত্র শুরু। সামনে হয়তোবা এমন অনেক পিনাকী ভট্টাচার্যের আগমন ঘটবে যারা এই বই টির প্রেরণা নিয়ে এগিয়ে যাবে। আবিষ্কার করবে চেতনার নানান রূপ। ছড়িয়ে দেবে সবখানে মুক্তিযুদ্ধের রঙ।

    ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া: প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদের পর গার্ডিয়ান-এর বেস্ট সেলার বই হলো মুক্তিযুদ্ধের বয়ানে ইসলাম।
    মূলত নাম টা দেখেই বই টি কেনা, একটু ভিন্ন মাত্রার স্বাদ নেয়ার জন্য। ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন লেখকের লেখা পড়ে ও বইপত্র পড়ে মাথায় এটা ঢুকে গেয়েছিল মুক্তিযুদ্ধে হুজুররা রাজাকার ছিল, দাড়িটুপি ওয়ালা মোল্লারাই ৭১-র বিরোধিতা কারী। অনেক আগেই সেই ভুল ধারণা ভেঙে গেছে এবং এই বইটি সেই ভুল ধারণার বিপক্ষে এমন কিছু কথা ও দলিল হাজির করেছে আমি নিজেই চমকে গিয়েছি। এতটা আশা করিনি।

    কারণ, আমি চিনতাম না মুক্তিযুদ্ধের বন্ধু মাওলানা সাইয়্যেদ আসঅাদ মাদানী (র.) কে, চিনতাম না শাইখুল হাদিস মাওলানা আজিজুল হক কে, চিনতাম না হাফেজ মাওলানা আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজ্জী হুজুর কে। বইটি বয়ান আমাকে পরিষ্কারভাবে চিনিয়ে দিয়েছি কোন উদ্দেশ্যে কারা ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধকে পাশাপাশি দাঁড় করাবার বদলে মুখোমুখি এনে দাঁড় করিয়েছে। রাজাকার মানেই কারা দাড়ি টুপি পাঞ্জাবিওয়ালা মানুষদের চিনায় অথচ একটি দেশে যখন সংঘাত বা গৃহ যুদ্ধ লাগে কিছু মানুষ ভয়ে, কিছু মানুষ টাকার লোভে যুদ্ধকারীদের সাথেই থাকে। রাজাকার বলতে যেই দেশদ্রোহী চিত্র ভেসে উঠে বইটি দলিল দিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন সুরে কথা বলছে।

    এছাড়াও যুদ্ধকালীন রাজনীতি নিয়েও চমৎকার ভাষায় চমৎকার কিছু কথা তুলে ধরেছেন লেখক।
    কিছু জানবার জন্য বা ব টির বিরোধিতা করবার জন্য হলেও একবার পড়ে দেখার অনুরোধ রইল। বইটিতে আসলেই কোনো ভুল থাকলে তা পড়ে বের করে সবাইকে জানাতে হবে, নাম দেখেই বিরোধিতা করলে কোনো লাভ নেই।

    বইটি কি সংগ্রহে রাখার মতো?
    রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় তো বটেই, বাংলাদেশের রাজনীতির নাড়ির যোগটা যারা ধরতে চাইবেন, আগামী দিনের বাংলাদেশকে পুনর্নির্মাণ বা নতুন রাজনীতির পরিগঠন করতে যারা ইচ্ছুক, তাদের সকলের জন্য চমৎকার এই বইটি অবশ্যই ব্যক্তিগত সংগ্রহে রাখার মতো।

  • Abdullah Al Imran says:

    বইয়ের নাম: মুক্তিযুদ্বের বয়ানে ইসলাম
    লেখক: পিনাকী ভট্রাচার্য, গার্ডিয়ান পাবলিকেশন

    বর্তমানে ইসলামবিদ্বেষী সেক্যুলাররা সংবিধানে উল্লিখিত ধর্মনিরপেক্ষতাবাদকে সামনে রেখে মুক্তিযুদ্বকে ইসলামের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাড় করাতে চায়৷ এর মাধ্যমে তারা দেশের জনগণ বিশেষ করে তরুন প্রজন্মের মুক্তিযুদ্বভিত্তিক জ্ঞানের অপ্রতুলতাকে কাজে লাগিয়ে মুক্তিযুদ্বকে এমনভাবে উপস্থাপন করে যে বাংলাদেশের স্বাধীনতায় ইসলামের কোন অবদানই ছিলোনা
    এখেত্রে মুক্তিযুদ্বকালীন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ইসলামকে ব্যবহার করে বাংলাদেশবিরোধীতার উল্লেখ, বিভিন্ন নাটক সিনেমায় দাঁড়িটুপিওয়লা ব্যক্তিদের রাজাকার হিসেবে উপস্থাপন করা সহ বিভিন্নভাবে মুক্তিযুদ্ব এবং ইসলামকে পরস্পর বিরোধী হিসেবে উপস্থাপন করে থাকে৷

    অথচ মুক্তিযুদ্বে এই সেক্যুলারদের অবদান প্রায় শূন্যের কোটায়৷

    স্বাধীন পরবর্তীকালিন সময়ে বাংলাদেশ সংবিধানে মৌলিক চার নীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতাবাদকে উল্যেখ করা হলেও মূলত সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যয়বিচারের স্লোগানকে সামনে রেখে দীর্ঘ প্রায় পঁচিশ বছরের নির্যাতন এবং বৈষম্যের যাতাকল থেকে মুক্ত হতে পূর্ব বাংলার আপামর জনতা মুক্তিযুদ্বে অংশগ্রহন করেছিল৷ যার সিংহভাগ ছিলো মুসলিম৷

    উপরোক্ত চারটি মতবাদ মূলত ততকালীন ভারত সরকারের দেয়া৷

    যাইহোক, যুদ্বকালীন সময়ে আওয়মী লীগের নীতি নির্ধারনী রাজনৈতিক দলিলে ইসলাম, মুক্তিযুদ্ব নির্মাণের বিভিন্ন বয়ান বক্তৃতায় ইসলাম, সরকারী ঘোষনা ও নির্দেশাবলিতে ইসলাম, রাজাকার কারা ছিলো? দাঁড়ী-টুপিহীন অধিকাংশ রাজাকারের চিত্র, আলেম সমাজ বিশেষ করে উপমহাদেশের আলেম সমাজের ভূমিকা, স্বাধিন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত অনুষ্ঠানসমূহে ইসলামসহ মুক্তিযুদ্বকালীন সময়ে ইসলাম কীভাবে মুক্তিযোদ্বাদের যুদ্বের অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করেছে?

    সর্বশেষ মুসলিম লীগ নিয়ে ভুল ধারণার অপনোদন, সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার কারণ ও ভারত-পাকিস্তান ভাগ নিয়ে গৌতম দাসের চমকপ্রদ উপস্থাপনা রয়েছে বইটিতে৷

    বইটি প্রায় পুরোটাই তথ্যে পরিপূর্ণ, লেখক বইটিতে খুব কমই নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন৷

    মুক্তিযুদ্বে ইসলামের অবদান নিয়ে জানতে আগ্রহীরা বইটি থেকে যথেষ্ট উপাত্ত পাবেন এই আশা রেখে পর্যালোচনার ইতি টানলাম৷

    ——আব্দুল্লাহ আল ইমরান———

  • লেখক পিনাকী ভট্টাচার্য নিরপেক্ষভাবে আলোচনা করেছেন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। সত্য বলার ক্ষেত্রে কারো তোয়াক্কা করেননি।গভীরে গিয়ে তুলে এনেছেন মূল ইতিহাস। পক্ষ নেননি কারো।যা সত্য তাই বর্ণনা করেছেনে নির্দ্বিধায়। মুক্তিযুদ্ধে ইসলাম ও মুসলমানের যে কৃত্রিম বিরোধ তৈরি করেছিলো সেক্যুলাররা, সেগুলোকে উপযুক্ত দলীল-প্রমাণ দিয়ে খন্ডন করেছেন।তুলে ধরেছেন এক অজানা ইতিহাস।
    তাই এক্ষেত্রে বইটি হল অতুলনীয়। ইতিহাস পাঠের যে বিরক্ত তা এতে হবেনা বিন্দুমাত্র।
    পরিশেষে, আল কোরানের প্রথম উপদেশ,
    ‘পড় তোমার প্রভুর নামে,যিনি তোমায় সৃষ্টি করেছেন’।

  • Leave a Reply

    Your email address will not be published. Fields with * are mandatory.

    গার্ডিয়ান পাবলিকেশন © ২০১৭-১৮
    Developed by: Al-Amin Firdows