প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ


লেখকঃ আরিফ আজাদ

ক্যাটাগরিঃ ইসলামি আদর্শ ও মতবাদ, নাস্তিক্যবাদ

প্রকাশের সালঃ ২০১৭

প্রচ্ছদ অলং‍করণঃ কাজী যুবাইর মাহমুদ

মূল্যঃ ৩০০

আইএসবিএন নংঃ 978-984-92959-0-7

সংস্করণঃ চতুর্থ

মলাটঃ হার্ডকভার এবং পেপারব্যাক বাইন্ডিং

বিশ্বাসের কথা কতটা শক্ত করে বলা যায়? বিশ্বাসী প্রাণের সুর কতটা অনুপম হতে পারে? বিশ্বাসকে যুক্তির দাঁড়িপাল্লায় মাপা কি খুব সহজ?
অবিশ্বাসীকে কতটা মায়াভরা স্পর্শে বিশ্বাসের শীতল পরশ দেয়া যায়? যুক্তিই মুক্তি নাকি বিশ্বাসের যুক্তিতে মুক্তি?
‘প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ’ পড়ে এসবের উত্তর মিলতে পারে।



বইটির কয়েক পৃষ্ঠা পড়ুন


 Comments 2 comments

  • Masud shorif says:

    ঘুটঘুটে অন্ধকার। নীরব। নিস্তব্ধ।

    হঠাৎ কোথেকে যেন উদয় হলো আলোর ঝরনাধারা। সেই আলোয় পরিশুদ্ধ হচ্ছে শহর-বন্দর-গ্রাম। ভেসে যাচ্ছে নর্দমা আর নোংরা আবিল। কিন্তু ব্যাপারটা কারও কারও সহ্য হলো না। যে-অন্ধকারে তারা ছিল, সবাইকেই তারা ধরে রাখতে চাইল সেই অন্ধকারে। লেজকাটা শেয়ালের মতো সবাইকে যার যার লেজ কেটে ফেলার “সু”পরামর্শ দিল। বিশাল এক কালো থাবায় ছেদ পড়ল আলোর গতিধারায়। ধীরে ধীরে আবার বাড়তে লাগল নিকষ অন্ধকার।

    এমনই এক শঙ্কুল সময়ে এগিয়ে এলেন একজন। আজাদ করার ব্রত নিয়ে নামলেন সাদা পাতার কালো হরফে। সরাতে লাগলেন নতুন করে গজিয়ে ওঠা জঞ্জাল; এবং কালো থাবার অশনি।

    সাজিদ। নতশির। একসময় নত হতো কথিত বিজ্ঞানমনস্কতার নামে ভ্রান্ত বিশ্বাসের পদতলে। সত্যের সন্ধান পেয়ে আজ নত হয় মহান স্রষ্টার সমানে। শুধু নত হয়েই ক্ষান্ত হয়নি; যে-মশালের সন্ধান পেয়েছে, সেটা ছড়িয়ে দিচ্ছে আপনজনের কাছে: কখনো মুসলিম-অমুসলিমদের ভ্রান্ত ও ঊনধারণার মুণ্ডুপাত করে, কখনো মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া মুসলিমদের সংশয় নিরসন করে।

    ইসলাম নিয়ে নাস্তিক আর সংশয়বাদীদের মৌলিক প্রশ্ন হাতে গোনা। বেশিরভাগই ইসলামের শত্রু আর বিদ্বেষীদের থেকে ধার করা। এগুলো যেমন ছিল ১৪ শ বছর আগে, তেমনি জিইয়ে আছে আজও। এসব নিয়ে কাজ হয়েছে প্রচুর—দেশে। বিদেশে। আরিফ আজাদের স্বকীয়তা এখানেই যে, তিনি এগুলো তুলে এনেছেন গল্পের ধাঁচে। আকর্ষণীয় ঢঙে। সহজ ও সাবলীল ভাষায়। প্রাসঙ্গিক যুক্তি আর প্রতিতুলনার সন্নিবেশে।

    এখানে আছে মুক্তিযুদ্ধ, বিজ্ঞান, কৌতুক, যুক্তি, কুর’আন, গবেষণা আর অনেকখানি ইসলাম।

    পড়তে পড়তে কখনো টেনশন জাগবে। সাজিদের নীরবতায় জ্বলুনি হবে। এরপর সে যখন বলা শুরু করবে তখন হা হয়ে বসে থাকতে হবে। কখনো কিছু কথা মাথার উপর দিয়ে যাবে। কিছু অন্তর ভেদ করবে। সত্যকে টেনে তুলবে। ভেলকিবাজি দেখিয়ে দেবে। মুখোশ, ডবালস্ট্যান্ড উন্মোচন করবে। কিছু জায়গা পড়তে পড়তে ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠবে এক চিলতে হাসি। আল্লাহ চান তো, কখন যে সরে যাবে কালো থাবার গ্রাস খেয়ালই থাকবে না।

    এ ধরনের বইয়ের আরেকটি দিক হচ্ছে, কারও কারও জন্য দুটো প্রশ্নের উত্তর যথেষ্ট, কারও জন্য দশটি, কারও জন্য বা দু শটিতেও হবে না। তারপরও বাঙালি “মুক্তমনা” চর্চাকারীরা সাধারণত যেসব অজুহাত তুলে ধর্মকারী করে, সেগুলোর গোছানো উত্তর পাওয়া যাবে এখানে।

    ব্যক্তিগতভাবে আমি নিজে একসময় সংশয়বাদী ছিলাম বলে, বইটার আবেদন ও প্রয়োজনীয়তা আরও বেশি লেগেছে আমার কাছে। বইটার মূল উদ্দেশ্য ভ্রান্তি ধরিয়ে দেওয়া হলেও, আমি চাই না বইটার জবাবে কোনো নাস্তিকের দাঁত ভেঙে যাক। আমি চাই না বইটা পড়ে কোনো সংশয়ী অপদস্থ হোক। আমি চাই তারা হতবাক হয়ে যাক। বাকশূন্য হয়ে যাক। তাদের সামনে উদ্ভাসিত হোক সত্য। যে-কালো থাবা আড়াল করে রেখেছিল আলোরচ্ছটাকে, আমি চাই সেই থাবা অসহায় হয়ে পড়ুক আলোর ঝরনাধারার কাছে।

    বইটা হোক উঠতি, পাতি, উদীয়মান কিংবা ওয়ানাবি নাস্তিক, সংশয়বাদী আর ইসলামবিদ্বেষীর বটিকা। হয়ে উঠুক সত্যের অনুসারীদের পালে নতুন তূণ। প্রত্যেক মুসলিম হোক একেকজন #সাজিদ, #সাজিদা।

    সত্যের অবগাহনে সিক্ত হয়ে সবাই উড়ে বেরাক জান্নাতের বাস্তব ভুবনে, এই আশায়…

    রিভিউটি লিখেছেন: মাসুদ শরীফ

  • SB Rasel says:

    “২০১৩ বা ১৪ সালে আমার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে ফেবুতে ব্লক করে দিয়েছিলাম। ফেবুতে একমাত্র তাকেই ব্লক করা যেকিনা আমার এক সময়ের অনেক কাছের বন্ধু ছিল। ২০০৫ সাল থেকে যার সাথে আমার আন্তরিক সম্পর্ক, বন্ধুর সম্পর্ক তাকে অনলাইন সহ অফলাইনে ব্লক করে দেয়াটা মামুলি ব্যাপার ছিল না। সে অনেক কথা। ইসলাম নিয়ে, কোরআন নিয়ে তার যে অভিব্যক্তি, মন্তব্য শুনেছিলাম তাতে আমি হতভম্ব হয়েছিলাম।

    আমাদের চারপাশে আমাদেরই অনেক আপনজন আছেন যারা ইসলাম ধর্ম পালন (বিশ্বাস অর্থে) করে কিন্তু ধর্মীয় জ্ঞানের পরিধি সীমিত হওয়ার দরুণ কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিশ্বাস ধরে রাখতে পারে না। এ পর্যন্ত ঠিক ছিল। কিন্তু যখন এমন হয় যে, কোন মাধ্যমে ইসলামের ভূল ব্যাখ্যা, বোঝাবুঝির দ্বারা ইসলাম নিয়ে অবিশ্বাস চলে আসে, আস্থা হারিয়ে যায়… সমস্যাটা হয় তখনই। এর মূল কারণ হল, পরিবার, পরিবেশ (যেখানে সে চলাফেরা করে) আর রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা। এগুলো মূল নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। বর্তমানে সময়ে অবিশ্বাসীর সংখ্যা এতটাই বেড়ে যাচ্ছে যে যা কল্পনাতীত।

    যাইহোক, এই বইটি (প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ) ঠিক ঐভাবেই সাজানো হয়েছে যেখানে দৈনন্দিন জীবনে কিছু অজানা বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সৃষ্টি, স্রষ্টা, মহাবিশ্বের জন্ম, সুর্য, চন্দ্র ইত্যাদি নিয়ে কোরআন আর বিজ্ঞানের ব্যাখ্যার একটা রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে যা অবিশ্বাসীর জন্য চিন্তার বস্তু আর বিশ্বাসীদের দলীল। গল্পের ছলে বিষয়গুলোর উপস্থাপনা আলাদা একটা আকর্ষণ আনবে।
    বইটির জন্য শুভকামনা। লেখকের জন্য দীর্ঘায়ূ।”

  • Leave a Reply

    Your email address will not be published. Fields with * are mandatory.

    গার্ডিয়ান পাবলিকেশন © ২০১৭-১৯
    Developed by: Al-Amin Firdows