সানজাক-ই উসমান


লেখকঃ প্রিন্স মুহাম্মাদ সজল

ক্যাটাগরিঃ অটোমান সাম্রাজ্য, অটোমান হেরেম, ইতিহাস, ইসলাম, উসমানি খেলাফত, চেঙ্গিস খান, মোঙ্গল সাম্রাজ্য, সালতানাত

প্রকাশের সালঃ ১৬-০৪-২০১৮

প্রচ্ছদ অলং‍করণঃ অর্নব হাসান রিফাত

মূল্যঃ ৫০০

আইএসবিএন নংঃ 978-984-8254-04-2

সংস্করণঃ ১ম

মলাটঃ হার্ডকভার

আপনি কয়জন সিরিয়াল কিলারকে চেনেন? জগতের ইতিহাসে ভয়াবহতম খুনীর সাথে কি আপনার দেখা হয়েছে?

‘সানজাক-ই উসমান’ আপনাকে তার সাথে দেখা করিয়ে দিতে চলেছে। তাকে দেখতে হলে আমাদের উঁকি দিতে হবে আট শ বছর আগের পৃথিবীতে।

ত্রয়োদশ শতাব্দির শুরুতেই মঙ্গোলিয়ান স্তেপ থেকে যেন স্বয়ং আজরাঈল হয়ে নেমে এলেন চেঙ্গিজ খান এবং তার মোঙ্গল বাহিনী। মাত্র কুড়ি বছরের ভেতর যেন নরকে পরিণত হলো সারা পৃথিবী। প্রথমে চীন তারপর তুর্কিস্থান, খোরাসান হয়ে মোঙ্গল ঝড় ধেয়ে এল ককেশাস, আনাতোলিয়া দিয়ে রাশিয়া আর হিন্দুস্থানের দিকে। মরে সাফ হয়ে গেল কোটি কোটি মানুষ। মোঙ্গলদের হাত থেকে কোনোমতে প্রাণ বাঁচিয়ে ইরান-তুর্কিস্থান থেকে আনাতোলিয়ার দিকে রওনা দিল কিছু মানুষ।

তারপর কী হলো? কী করে তারা গড়ে তুলল বিশাল এক সালতানাত? মোঙ্গলদের হাত থেকে কারা বাঁচালো মক্কা-মদীনাকে?

এটা কোনো নিয়মিত ইতিহাসের বই বা কোনো ঐতিহাসিক উপন্যাস নয়। এটা একই সাথে ইতিহাস, ফিকশন আর থ্রিলার। আজকের পৃথিবী কী করে নির্মাণ হলো, তা জানতে এই বই আপনাকে দারুণ সহযোগিতা করবে ইনশা আল্লাহ।

This is a time travel.

Start your Journey!



বইটির কয়েক পৃষ্ঠা পড়ুন


 Comments 15 comments

  • Abdullah al mamun says:

    আমি বইটা কিনব।।।।।।idea den plz

    • hazrat ali says:

      তাদেরকে কল করুন = ০১৭১০-১৯৭৫৫৮ ও ০১৯৯৮-৫৮৪৯৫৮

  • Abdullah al mamun says:

    Boi ta kinbo.. kivabe kinte parbo

  • hazrat ali says:

    তাদেরকে কল করুন = ০১৭১০-১৯৭৫৫৮ ও ০১৯৯৮-৫৮৪৯৫৮

  • Kawsar ahmed says:

    Boi ta kinbo kivabe ki ?

  • Shamsur Rahman Omar says:

    বই রিভিউঃ সানজাক-ই উসমান
    লেখকঃ প্রিন্স মুহাম্মাদ সজল
    প্রকাশকঃ গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্স
    পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ৪৩০
    মুদ্রিত মুল্যঃ ৫০০ (হার্ড কভার)
    ৪৫০ (পেপারব্যাক)

    ………………….

    ১.

    উপন্যাস আর ইতিহাসের মধ্যে পার্থক্য কি?

    ইতিহাস পুরোনো দিনে ঘটে যাওয়া ঘটনার নিরেট বিবরন। উপন্যাসে থাকে কিছু কেন্দ্রীয় চরিত্র, বিভিন্ন ঘটনা যাদের ঘিরে আবর্তীত হতে থাকে।

    উপন্যাসে লেখকের অবাধ স্বাধীনতা থাকে। লেখক কল্পনার ঘোড়া ছুটিয়ে ভাব, আবেগ, রুপ কল্পের সাহায্যে তার চরিত্রগুলোকে ফুটিয়ে তুলেন।

    কিন্ত ঐতিহাসিকের হাত পা বাঁধা। ঘটনার বাইরে কল্পনার সুযোগ নেই। তেমন কিছুর দিকে হাত বাড়ালে ইতিহাসের মৃত্যু ঘটে, বিশ্বাসযোগ্যতার অভাবে।

    বিশ্বসাহিত্যে ইতিহাস নির্ভর কিংবা ঐতিহাসিক পটভুমিতে নির্মিত উপন্যাস অনেক হয়েছে। লিও তলস্তয়ের “ওয়ার এন্ড পিস”, আলেকজান্ডার দ্যুমার “থ্রি মাস্কেটিয়ার্স”, স্যার ওয়াল্টার স্কটের “তালিসম্যান”, হেনরি রাইড্যার হ্যাগার্ডের “ব্রেদেরেন”, এরিক মারিয়া রেমার্কের “অল কোয়ায়েট অন দ্যা ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট”, নসীম হিজাযীর “কায়সার ও কিসরা” “হিজাজের কাফেলা” তেমন কিছু উল্লেখযোগ্য নাম। বাংলা ভাষায় এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য সুনীলের ত্রয়ী উপন্যাস ‘পুর্ব পশ্চিম’, ‘প্রথম আলো’ এবং ‘সেই সময়’।

    এসব উপন্যাসে কাহিনীকাকারেরা ইতিহাসের পটভুমি ঠিক রেখে চরিত্র নির্মান করেছেন। কল্পনার রঙয়ে জীবন্ত করে তুলেছেন একেকটি চরিত্র।

    পড়তে পড়তে পাঠক অনায়াসে একদিকে সাহিত্যের স্বাদ পান, অন্যদিকে ইতিহাসের সে সময়ের প্রেক্ষাপট উপলব্ধি করতে পারেন। মুশকিল হল পাঠক কখনও কখনও দ্বিধায় পড়ে যান, কোনটি ঐতিহাসিক সত্য আর কোনটি লেখকের কল্পনা।

    নিরেট ইতিহাস এদিক দিয়ে কিছুটা এক ঘেয়ে, ম্যাড়মেড়ে। আমজনতা তাতে রস খুজে পান না।

    সানজাক-ই উসমান এই দিক দিয়ে এক অদ্ভুত সুন্দরের প্রতিচ্ছবি। উপন্যাস নয়, ইতিহাস। কিন্ত গোটা ইতিহাস এগিয়েছে উপন্যাসের গল্প বলার ঢঙয়ে।
    যে বলার ভংগী এতটাই টানটান, এতটাই চমৎকার, একবার হাতে তুলে নিলে পাঠক নিজেকে হারিয়ে ফেলবেন। ভুলে যাবেন নিজের আত্মসত্মা।
    স্থান কাল ভুলে ডুবে যাবেন ইতিহাসের এক ঘটবাহুল অতীতে। বই শেষ করার আগে যেখান থেকে বেরিয়ে আসার কোন সুযোগ নেই।
    .
    .
    ২.

    বিশেষত্বঃ
    সানজাক–ই উসমান মুলত উসামানী সম্রাজ্যের ইতিহাস নিয়ে রচিত।

    পশ্চিমারা আমাদের শিখায় ইতিহাস কেবল পশ্চিমাদের নিয়েই হয়। জগতের সব সজ্জন সুসভ্য মানুষেরা পশ্চিমে ছিল, আছে, থাকবে। সভ্যতার উত্থান পতন সব সেখানেই। সানজাক-ই উসমান আপনাকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিবে এই তত্ব কতখানি ভুল, কতখানি ভ্রান্তিতে ভরা।

    এশিয়া ও ইউরোপের বিস্তীর্ন অঞ্চলে উসমানীয়রা এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল। রন কৌশল, কুটনীতি, রাষ্ট্র কাঠামো, বীরত্ব সব কিছুতে তারা ছড়িয়ে গিয়েছিল বিশের অন্য সব পরাশক্তিকে।

    আরতুরুল বে, উসমানের হাত ধরে যেই সম্রাজ্যের সুচনা হয় মুরাদ, বায়েজিদ, মুহাম্মাদ আল ফাতিহের নৈপুন্যে সেই সাম্রাজ্য পায় শক্তিশালী ভীত।

    বইয়ের পাতায় পাতায় মিলবে ঐতিহাসিক নানা চরিত্রের খোঁজ। মোঙ্গল হালাকু খান, চেঙ্গিস খানের নারকীয় বর্বরতা আপনার আত্মাকে কাঁপিয়ে তুলবে। তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো শাহজাদা জালাল উদ্দিনের প্রতিরোধ আপনার রক্তে নাচন ধরাবে। আপনি মুখোমুখি হবেন ইতিহাস কুখ্যাত রক্তপিপাসু চরিত্র ‘ড্রাকুলা’র। দেখা মিলবে জালাল উদ্দিন রুমী, ইবনে বতুতা, কবি হাফিজ কিংবা প্রেমের রানী গুলবাহারের।

    ক্রুসেড, স্পেনের উত্থান-পতন ইত্যাদি ইতিহাস বিখ্যাত ঘটনাগুলো আপনার চোখের সামনে ভাসবে। চেনা জানা হেরেমের বাইরে অন্য এক “হেরেমের’ সাথে পরিচয় ঘটবে আপনার।

    অবাক হয়ে জানবেন, আজকের সাধারন লবঙ্গ, এলাচ, গোলমরিচ এক সময়ের বিশ্ব রাজনীতিতে কী বিস্ময়কর ভুমিকা রেখেছিল।

    যুদ্ধ-সংঘাত-বিশ্বাসঘাতকতা, কুটচাল, খুন-ধর্ষন-লুট, ভাইয়ের সাথে ভাইয়ের নিষ্ঠুর বেঈমানী…ইতিহাসের এই পাঠ আমাদের চেনাজানা পৃথিবী থেকে একদমই আলাদা।
    .
    .

    ৩.

    বইয়ের শক্তিশালী দিকঃ

    ক. বইয়ের ভাষা আর গল্পের বুনন সত্যি অসাধারন। যে কোন টানটান ড্রামা সিরিয়ালের চাইতে কোন অংশে কম নয়।

    খ. বাঁধাই, প্রচ্ছদ, কাগজের মান অত্যন্ত উন্নত।

    গ. যুদ্ধের বর্ননাগুলো অনেক বেশি প্রানবন্ত। পড়তে গিয়ে পাঠকের মনে হবে, তিনি নিজেই যুদ্ধক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে যুদ্ধ করছেন।

    ঘ. কাহিনীর ক্যানভাস অনেক বড়। তৎকালিন পৃথিবীর এক বিশাল দিক আবিষ্কার করবেন পাঠক।

    ঙ. আমাদের ইতিহাসের বইগুলো হয় গুরুগম্ভীর, ভারিক্কি। একেকটা প্যারা অনেক বড়। কিন্ত এই বই লেখা হয়েছে ছোট বাক্য, ছোট ছোট প্যারায়। পড়তে গিয়ে পাঠক একটুও ক্লান্তি অনুভব করবেন না। বই ছেড়ে উঠতেও পারবেন না।

    চ. গল্প বলার ঢঙয়ে ইতিহাস থাকায় খুব সহজেই কেন্দ্রীয় চরিত্রগুলো মাথায় গেঁথে যাবে।

    বইয়ের দুর্বল দিকঃ

    ক. যুদ্ধের বর্ননায় অনেক ইংরেজি শব্দের ব্যবহার। যেমন ‘ক্যাভলরি চার্জ’, ‘অল আউট এসল্ট’, ‘ফেইন্ড রিট্রিট’ ইত্যাদি। যুদ্ধ সম্পর্কে অনভিজ্ঞ বাংলাভাষি পাঠকদের জন্য এর সঠিক অর্থ বের করা ক্ষেত্র বিশেষে দুরহ।

    খ. আরো কিছু শব্দ ইংরেজিতে ব্যবহার হয়েছে, যেগুলো অনায়াসেই বাংলা করা যেত। যেমন ডিসাইসিভ (যুগান্তকারী), ডেমোগ্রাফি (জনসংখ্যা), প্রাগম্যাটিজম (বাস্তব বোধ/বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান কিংবা ধারনা।

    গ. অনেক উদ্ধৃতি আছে ইংরেজিতে। সেগুলো অনুবাদ না থাকায় পাঠক কিছু ক্ষেত্রে রসবোধ থেকে বঞ্চিত হবেন। বিশেষ করে হাফিজ ও রুমির পঙতিগুলো।

    ঘ. বইয়ের কলেবড় বেশ বড়। হাতে ধরে পড়াটা কিছুটা অসুবিধা জনক। পাশাপাশি কাহিনীর ব্যপ্তির বিশালতার কারনে অনেক চরিত্র মনে রাখা কঠিন।

    ঙ. রাজনীতি কিংবা যুদ্ধ বিগ্রহের বর্ননার পাশাপাশি উসমানী সম্রাজ্যের আর্থ সামাজিক অবস্থা ও সংস্কারের বর্ননা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। মনে হতে পারে, রাজা রাজড়ারা যুদ্ধ বিগ্রহ আর খুন খারাবী নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন। সভ্যতা বিনির্মানে তাদের তেমন কোন উল্লখেযোগ্য ভুমিকা কিংবা অবদান ছিল না।

    চ. গ্লোবালাইজেশন অধ্যায়ে আমেরিকা ও ইউরোপে রোগের প্রাদুর্ভাবের আলোচনায় হুট করে “রুদ্র মুহাম্মাদ শহীদুল্লাহর” নাম বেমানান লেগেছে। বিশেষ করে প্রসঙ্গ বিবেচনায় তার নামটা এমন কিছু জরুরী ছিল না।
    .
    .
    ৪.
    Spoiler
    দুর্বল চিত্ত ও নরম মনের মানুষেরা বারেবারে শিউরে উঠতে পারেন।

    গনহারে মানুষ হত্যা, নারকীয় হত্যাযজ্ঞ, ধংসযজ্ঞ, লুটপাট, গনধর্ষনের বর্ননা আছে প্রায় প্রতি অধ্যায়ে।

    একটা অংশ আমার নিজের কাছে খুব অসহনীয় মনে হয়েছে। কিন্তু পাঠক হিসেবে যেমনই লাগুক, এটাই বাস্তবতা। এটাই ইতিহাস।

    সুলতান বায়েজিদ তাইমুর লংকে হুমকি দিয়ে চিঠি লিখেছিলেন “তোমাকে যদি যুদ্ধে হারাই, তাহলে তোমার স্ত্রীদের নগ্ন করে আমি নাচের আসর বসাব। তাদের হাতে আমি শরাব পান করব”

    যুদ্ধে বায়েজিদ পরাজিত হন। তাইমুর বায়েজীদের সাথে নিষ্ঠুর রসিকতা করেন। তাইমুর এক ভোজ সভার আয়োজন করেন।

    সেখানে বন্দী বায়েজীদকে ফিরিয়ে দেয়া হয় তার রাজকীয় পাগড়ি, পোশাক ও সিংহাসন। বায়েজিদ দারুন অবাক হন।

    শুরু হয় নাচ গান। এক সময় বায়েজিদ অবাক বিস্ময়ে লক্ষ্য করলেন, তার প্রিয় তিন স্ত্রীকে এনে হাজির করা হয়েছে ভোজ সভায়। তিনজনই নগ্ন। এ অবস্থাতেই তারা তাইমুরকে খাবার পরিবেশন করছিলেন।

    বায়েজিদ আর এ দৃশ্য সহ্য করতে পারলেন না।

    তারপর কি হল? জানতে হলে চোখ রাখুন বইয়ের পাতায়।
    .
    .

    ৫.

    সানজাক-ই উসমান বাংলা সাহিত্যে এক কালজয়ী সৃষ্টি হিসেবে স্থান করে নিবে বলেই আমার বিশ্বাস। উপন্যাসের ঢঙয়ে এমন স্বার্থক ইতিহাস রচনা আর কেউ করেছেন কিনা জানা নেই। সে হিসেবে প্রিন্স সজল এক নতুন ধারার সুচনা করলেন।

    আমি অবাক হয়েছি শুনে, গোটা বইটা তিনি মোবাইলে লিখেছেন। বই পড়ে বুঝতে পারলাম, কী পরিমান পড়াশুনা ও অধ্যবস্যা তাকে করতে এই হয়েছে এই একটি বই লিখতে গিয়ে। দোয়া করি, তার এই সাধনা যেন চলমান থাকে। আমরা যেন ইতিহাস নির্ভর আরো এমন লেখার স্বাদ পাই।

    বইটি পড়তে গিয়ে আমার একটি গান বারবার মনে পড়ছিল “পৃথিবীতে কেউ স্থায়ী হয়না/হোক না সে ফেরাউন কিবা নমরুদ/কেউ ভবে চিরদিন রয় না”

    ইতিহাসের সে সব রথী মহারথীরা আজ আর নেই। এভাবেই একদিন সবাই চলে যাবে। কিন্ত ক্ষমতার মদমত্ততায় সবাই এ কথা ভুলে যায়। ধরাকে সরা জ্ঞান করে। ক্ষমতার লোভে মানবতার চরম অপমান করতে এতটুকু দ্বিধা করে না।

    ভুলে যায়, মৃত্যুর পরের জগতে তাদের সব অপকর্মের হিসাব দিতে হবে। লক্ষ মানুষের আর্তনাদ, চোখের পানি একদিন অভিশাপ হয়ে তাদের জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দিবে মহামহিম প্রভুর আদালতে।

    এ যুগের রাষ্ট্রনায়কেরাও তার ব্যতিক্রম নয়।

  • ‎MD Asif Reza‎ says:

    বই সানজাক ই উসমান- অটোমানদের দুনিয়ায়।
    লেখকঃ Prince Muhammad Sajal.
    জনরাঃ ঐতিহাসিক গ্রন্থ।

    শুরুতেই বলে নেয়া ভাল এটা কোন গতানুগতিক ধারার ঐতিহাসিক গ্রন্থ না। সাধারণত ইতিহাসবিদগণ যে ভাষায় বই লেখেন এটা সেই শুষ্কং কাষ্ঠং ভাষা হতে মুক্ত, সহজ ভাবে সাল তারিখ উপস্থাপন করা সাতটি অধ্যায়ে সাজানো বিশাল এক ক্যানভাস। যে ক্যানভাসে শুরুতেই আকা হয়েছে তেমুজিন নামের এক শিশুর ছবি। যে শিশুকে আমরা পরবর্তীকালে চিনেছি ইতিহাসের কুখ্যাত লৌহমানব চেঙ্গিস খান নামে। যিনি কেয়ামতের আগেই দুনিয়াকে দেখিয়েছিলেন কেয়ামতের আরেক রূপ। অশিক্ষিত আর অসভ্য মঙ্গল নৃ-গোষ্ঠী কে যিনি বানিয়েছিলেন পৃথিবীর ত্রাস।

    মঙ্গল দস্যুরা দুনিয়ার সব জায়গায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করলেও আজকের পশ্চিম ইউরোপে তাদের কোন পদচিহ্ন পাওয়া যায়না, যে মঙ্গল দস্যুরা তৎকালীন দুনিয়ার সবচাইতে এলিট শহর বাগদাদ, জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার তীর্থস্থান বাইতুল হিকমাহ ধ্বংস করে ফেলেছিল তাদের হাত থেকে মক্কা মদিনা, পবিত্র কাবা ঘর রক্ষা পেল কি করে? ইসলামের আবির্ভাব আরব দেশে হলেও কেন ইসলামের রক্ষাকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হয় তুর্কি জাতি? মঙ্গলদের তাড়া খেয়ে নিজ বাসভূম ছেড়ে যে তুর্কি জাতি পরিণত হয়েছিল আনাতলিয়ার(বর্তমান তুরস্ক) যাযাবর জাতিতে কিভাবে তারা পরবর্তী ৫০০ বছর পুরো পৃথিবীর পরাশক্তি হিসেবে রাজত্ব করলো? সকল প্রশ্নের উত্তর পাবেন আপনি এই ক্যানভাসে আকা ছবি থেকে।

    মুলত অটোমান সাম্রাজ্যের ইতিহাস কেন্দ্রিক গ্রন্থ হলেও এই বই এ মঙ্গল বাহিনী আর কনস্টান্টিনোপল(বর্তমান ইস্তাম্বুল) জয় করা অটোমান সুলতান মুহাম্মদ আল ফাতিহ এর উপর আলোকপাত করা হয়েছে। লেখক সচেতনভাবেই সেটা করেছেন। এই দুটো ব্যাপারে মেইন ফোকাস হলেও প্রাসঙ্গিক সব ব্যাপার ই জায়গা পেয়েছে বইতে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় জালালউদ্দিন রুমি এবং তার গুরু শামস তাবরিজ এর কথা।

    বই এর ভাষা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। আমার বিশ্বাস যারাই এই বইটি পড়েছে তারা সবাই লেখকের ফেসবুক পাঠক। সবাই তার লেখনশৈলী’র ব্যাপারে আগে থেকেই জানে। তার লেখার সহজবোধ্যতা সেই সাথে মোহিনীশক্তি আপনাকে নিয়ে যাবে এমন এক জগতে মনে হবে যেন সবকিছু আপনার চোখের সামনে ঘটছে। এক কথায় টাইম ট্রাভেল।

    অটোমানদের ইতিহাস ছাড়াও এখানে জায়গা পেয়েছে আধুনিক দুনিয়া, কলোনিয়াজম, গ্লোবালাইজেশন এসব ব্যাপার। ইউরোপে কেন রেনেসা শুরু হয়েছিল, মুসলিম দের তথ্য-প্রযুক্তি মোডারেট করে খ্রিস্টান রা এগিয়ে গেলেও মুসলিম রা কেন পিছিয়ে এসব প্রশ্নের উত্তর সংক্ষিপ্ত আকারে পাবেন।

    এই বই এর সবচাইতে নেতিবাচক ব্যাপার হলো, আপনি টাইম ট্রাভেল করতে করতে এমন এক জায়গায় যাবেন যেখানে গিয়ে মনে খচ খচ করবে এরপর কি? এরপর কি? ঠিক সেই মুহূর্তেই দেখবেন বই শেষ!!!! লেখক কে এরজন্য ফাইন করা উচিৎ!

    তবে আশার বাণী হলো লেখক শেষ লাইনে বলে রেখেছেন, “সামনে ষোড়শ শতাব্দী নিয়ে আসতে যাচ্ছে রেনেসাঁ, আর একটা অনিবার্য বিশ্বযুদ্ধ।” পরের কিস্তির জন্য আগেই বুকিং দিয়ে রাখলাম।

  • Imran Abdullah says:

    বইয়ের নাম ‘সানজাক-ই উসমান: অটোমানদের দুনিয়ায়’। নামেই বুঝা যাচ্ছে তুরস্কের উসমানী খিলাফত নিয়েই এই বই।কিন্তু বইয়ের প্রথম এক তৃতীয়াংশে যে কেবলি চেংগিস খান ও তার সৈন্যবাহিনীর খুরের আওয়াজ,অস্ত্রের ঝনঝনানি এবং তাণ্ডবলীলার বর্ণনা। তাহলে উসমানীরা কোথায়? আসলে উসমানীদের উত্থান বুঝতে হলে আগে বাগদাদের আব্বাসীয় খিলাফতের পতনের সময়টা এবং মোংগলদের দুর্ধর্ষতার দিকে নজর দিতে হবে। এক অনুর্বর পাথুরে জমির যাযাবর জাতি ক্ষুদ্র অবস্থা থেকে কিভাবে সমৃদ্ধশালী মুসলিম সাম্রাজ্যকে ধসিয়ে দিল তার ধারাবাহিক বর্ণনা দিয়েছেন লেখক প্রিন্স মুহাম্মাদ সজল। মুসলিমদের সম্পদ-সমৃদ্ধি আর ঘাড়ের উপর চেপে বসা স্বৈরাচারী ধুরন্ধর শাসকরাই যেন তাদের কাল হয়ে দাঁড়াল। মাত্র ১০০ বছরে অর্ধ পৃথিবী দখলে নেওয়া আরবদের উত্তরসূরিরা তখন ভোগবিলাসে মত্ত।শাসকরা জনগণকে শাসন করছেন ‘ডিভাইড এন্ড রুল’ পলিসিতে।অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে বিভক্ত রেখেছেন জনগণকে। বুদ্ধিজীবীরা দলিলদস্তাবেজ দিয়ে তর্ক করছেন কোন ধাতুর তৈরি পাত্রে মদ খেলে বেশী নেশা হয়? সোনা না রুপার? সন্ধ্যা হলেই দিকে দিকে নুপুরের নিক্কণ আর সংগীতের জলসা। এমন সময়েই যেন মাথায় বাজ পড়ার মত আবির্ভূত হলো মংগলরা। মংগলদের আগমন যে একেবারে আকস্মিক ছিল তাও না। মংগলদের আগমনের খবর অনেকদিন আগে থেকেই শোনা যাচ্ছিল।এমনকি যেসব ছোট ছোট আমিরাত মংগলদের অভিযানের শিকার হওয়ার জন্য সবচাইতে ঝুঁকিতে ছিল, তাদের সহযোগিতার আহবানও রাজনৈতিক গুটিবাজির জায়গা থেকেই প্রত্যাখান করলেন।চিন্তার জায়গাটা এমনভাবে শুণ্য হয়ে গেছিল যে,শাসকশ্রেণী অনাগত বিপদ সম্পর্কে কোন ধরনের হোমওয়ার্ক করার দরকার মনে করেনি। ফলস্বরুপ, মংগলরা যখন দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছাল,ততদিনে প্রস্তুতি নিয়ে লড়াই করার সামর্থ্য আর নাই।ক্ষমতার সুফলভোগী উচুঁতলার মানুষরা নিজেদের পিঠ বাঁচাতে নূন্যতম লড়াইয়ের বদলে একপ্রকার মনুষ্যত্বহীন এই গোষ্ঠীর সামনে অসহায় আত্মসমর্পন করতে চাইলো। অথচ এই জাতিরই ছিল অল্প কিছুকাল আগে রক্তক্ষয়ী ক্রুসেড জয়ের অভিজ্ঞতা। যৎসামান্য প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিলেন এক সুলতান জালাল উদ-দীন।কিন্তু বড় অসময়ে জন্ম এই বীরের। অপ্রতিরোধ্য মংগলদের রুখে দেওয়ার জন্য সামর্থ্যের সবটা ঢেলে দিয়েছিলেন।কিন্তু সমসাময়িক মুসলিম শাসকদের কাপুরুষচিত আচরণের কারণে সফল হননি।এদিকে জনপদের পর জনপদে রটে গেছে,এ মংগলরা শেষ সময়ের ইয়াজুজ-মাজুজ ছাড়া আর কেউ নয়। ভীতি আর আতংক যেন আরো চেপে বসলো মুসলিমদের উপর।অথচ মংগলদের রুখে দেওয়ার জন্য বুকের সাহস আর হাতের কাছের সামর্থ্য একত্র করতে পারলে ইতিহাস হয়ত অন্যরকম হলেও হতে পারতো।

    মংগলদের যে চাইলে রুখে দেওয়া যায়,সেটা প্রথম হাতেকলমে দেখালেন সুলতান সাইফ উদ দীন কুতজ ও সুলতান বাইবার্স। এই দুইজন একত্রে বসে সিদ্ধান্ত নিলেন,এই মহাদুর্যোগ রুখতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার কোন বিকল্প নেই। আশ্চর্যজনক ব্যাপার হচ্ছে, কুতজ এবং বাইবার্সের মধ্যে কিন্তু তখন চরম বৈরী সম্পর্ক! তাঁরা হয়তবা জানতেন,ঐক্য হয় দুই কারণে। ১. অভিন্ন লক্ষ্য ও ২.অভিন্ন ঝুঁকি থেকে। তাঁরা জানতেন, মংগলদের না রুখলে মুসলিমদের নাম-নিশানা পৃথিবীর বুক থেকে বিলীন হয়ে যাবে। তাঁদের নিয়তকে আল্লাহ কবুল করেছিলেন।মংগলদের অগ্রযাত্রাকে তাঁরা সত্যিই ঠেকাতে পেরেছিলেন।

    কিন্তু এখানে ইতিহাসের চাকা ঘুরতে অন্য দুইটা ফ্যাক্টরও প্রভাবকের কাজ করেছে। প্রথমটি হচ্ছে,কোন ধরনের আদর্শিক ভিত্তি না থাকলে সে সাম্রাজ্য টিকে না।মংগলরা স্রেফ লুটতরাজ আর রক্তের নেশা থেকেই সাম্রাজ্যের বিস্তার করে যাচ্ছিল।তাদের সামনে আদর্শিক লক্ষ্য ছিল না।মোংগলদের দ্রুত বিস্তৃত সাম্রাজ্যও একটা সময় থমকে গেছে। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, নারীর শক্তি। মংগলরা যখন একের পর এক মুসলিম ভূমি দখলে নিচ্ছিল,তখন পুরুষদেরকে পাইকারিভাবে হত্যা করেছে আর নারীদেরকে দাসী হিসেবে বন্দী করেছে। এই নারীরা এক অসম্মানের বেড়াজালে জড়িয়ে গেলেও নিজেদের ধর্ম-ঐতিহ্যকে ভুলেননি। চরম লাঞ্ছনা আর অপমানের মধ্যেও ইসলামকে লালন করে গেছেন।ফলে মংগলদের মধ্যে যখন ইসলাম গ্রহণের প্রবণতা বাড়লো,তখন দেখা গেল মোংগল অন্তঃপুরে ইসলাম আরো আগেই উপস্থিত হয়ে আছে। ইতিহাসে এমন নজির অভূতপূর্ব। বিজয়ীরা গ্রহণ করছে বিজিতদের আদর্শ!

    মংগলরা যখন ইসলাম গ্রহণ আর অন্তর্কোন্দলে ম্রিয়মাণ হয়ে পড়ছে,তখন আস্তে আস্তে ডানা মেলছে উসমান নামের এক তুর্কী ঈগলের নেতৃত্বে খিলাফতের নতুন দিগন্ত। তাঁরই উত্তরসূরি খলিফা মুহাম্মদ আল ফাতিহ রাসুল সাঃ করা কনস্ট্যান্টিপল বিজয়ের ভবিষৎবাণীকে সত্যে পরিণত করেন।সুসংহত করেন ইসলামী সাম্রাজ্যকে। বইয়ের শেষ এক তৃতীয়াংশর অনেকটা জুড়েই আছেন এই ‘মেহমেত দি কনক্যুরার’।লেখক তাঁর জীবন্ত আর সুনিপুণ লেখনীতে এই ক্ষণজন্মার কনস্ট্যান্টিপল বিজয় ও মৃত্যুর ক্ষণকে এমনভাবে তুলে ধরেছেন যে হৃদয় আর্দ্র হয়ে উঠে।

    সানজাক-ই উসমান ইতিহাস গ্রন্থ হলেও লেখক চেষ্টা করেছেন এক সহজবোধ্য প্রাঞ্জল ভাষায় উপস্থাপন করতে। বইয়ের বিরাট অংশজুড়ে রয়েছে সমরকৌশল আর জিওপলিটিক্সের বর্ণনা। তাই থ্রিলারের গড়নে লেখা এই বই যে কোন বিগিনারের কাছে দুরুহ মনে হলেও হতে পারে। তবে উসমানী খিলাফতের সামাজিক চিত্র,প্রশাসন ব্যবস্থা এবং হেরেম সংক্রান্ত মিথের খণ্ডন যে কাউকেই মুগ্ধ করবে। এইসব উত্থান-পতনের সমান্তরালে কখনো কখনো হাজির করেছেন মাওলানা রুমিকে,ক্ষীয়মাণ আন্দালুসকে আবার কোথাও কোথাও ইউরোপের ডেমোগ্রাফিতে বিরাট পরিবর্তন আনা ব্ল্যাক ফিভারকে।

    বইয়ের বড় দুর্বলতা মনে হয়েছে, মানচিত্রের অপ্রতুলতা এবং অস্পষ্টতাকে।বইয়ে কিছু মানচিত্র থাকলেও অনেক জায়গাতে প্রবল অভাব অনুভূত হয়েছে। সমরকৌশল গুলো চিত্রাকারে দেখাতে পারলে বুঝতে সুবিধা হত।রণকৌশল সংক্রান্ত অনেক টার্ম সাধারণ পাঠকের কাছে একেবারে অচেনা ঠেকাটা অস্বাভাবিক না। শুরুতে পরিভাষার আইডিয়াটা ভালো।কিন্তু যেসব টার্ম অল্প কয়েকবার ব্যবহৃত হয়েছে,সেগুলো ফুটনোট আকারে আসলেই ভালো হত। বাংলা বইয়ে ইন্ডেক্স বা নির্ঘণ্ট ততটা প্রচলিত নয়।কিন্তু এই বইয়ে যে বিপুল পরিমাণ চরিত্র ও স্থানের সম্মিলন ঘটেছে,তাতে করে একটা নির্ঘণ্ট দাবী করাই যায়।মংগল বা উসমানীদের একটা বংশলতিকা থাকলে মন্দ হত না। বইয়ের ছাপার মান,কাগজ, কাভার ও বাঁধাই বেশ প্রশংসনীয়।সেই অনুসারে বইয়ের দাম একেবারেই হাতের নাগালে। প্রিন্টিং মিস্টেক চোখে পড়েনি বললেই চলে। প্রকাশকের প্রফেশনালিজমের তারিফ করতে হয়।

    মোরশেদ শফিউল হাসান লিখেছিলেন, ” “আমরা যাকে ইতিহাস বলে জানি তার অনেকটাই আসলে ইতিহাসের গল্প। এক কিংবদন্তিকে আমরা সাধারণত অন্য কিংবদন্তি দিয়ে, এক সংস্কারকে অন্য সংস্কার দিয়ে পুনর্বাসিত করি।” লেখক প্রিন্স মুহাম্মাদ সজল তাঁর সাবলীল ভাষায় এবং বিপুল পরিমাণ বই-প্রবন্ধের রেফারেন্স ব্যবহার করে পাঠককে কনভিন্স করতে পেরেছেন যে, তিনি ঈগলের চোখ দিয়ে যে ইতিহাসটা তুলে ধরতে চেয়েছেন,সেটাই সত্য। প্রথম বইয়ের লেখক হিসেবে এই অর্জন অবশ্যই অভিনন্দনের দাবী রাখে।মুসলিম উম্মাহর এই দুঃসময়ে এমন বই পাঠককে হয়ত নতুন করে ভাবাবে।

  • Mokhlesur Rahman says:

    #সানজাক_ই_উসমান
    কি লিখবো ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। বার বার শুধু একটি কথাই মনে হচ্ছে, সানজাক-ই উসমান এর মতো একটি বই প্রকাশিত হবার পরও কেন মানুষ #ইনফিনিটি_ওয়ার এর মতো একটা ফালতু মুভি দেখার জন্য ৮ম তলা থেকে রাস্তা পর্যন্ত টিকেট সংগ্রহের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে ?

    এই বইটা সম্পর্কে কিছু কথা বলতেই হয়। মাত্র ৪৩২ পৃষ্ঠার এই বইতে মধ্যযুগের প্রায় সাড়ে পাঁচশত বছরের ইতিহাসকে লেখক ধারাবাহিক ভাবে এতটাই প্রাণবন্ত করে তুলে ধরেছেন যেন এটা কোনো বই নয়, এটি একটি সময়! বইয়ের ভাষা এতটাই সমৃদ্ধ যে বইয়ের পাতায় চড়ে আমি চলে গিয়েছিলাম মধ্যে প্রাচ্যের মধ্যে যুগে। প্রত্যেকটি চরিত্রের স্বাদ আমি অনুভব করেছি, প্রতিটি যুদ্ধের দামামায় কেঁপে উঠেছিল আমার হৃদয়। পরাজয়ের গ্লানি, জয়ের আনন্দ, একান্তে প্রেমের অনুভূতি, ভয়ংকর নরপিশাচদের মুসলিম হত্যার বিকৃত রুচির অভিজ্ঞতা সবকিছু মিলিয়ে এ এমন এক স্বাধ যা বলে বোঝানোর মতো নয়।

    ১৫ শত বছর আগে রাসূল সালালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে ইসলামী সভ্যতা আরবের মাটি থেকে শুরু করেছিলেন সেই সভ্যতার ভাঙ্গা গড়ার ইতিহাস পরে কখনো আঁতকে উঠেছি কখনো বা বলেছি আলহামদুলিল্লাহ ! হিংস্রোতা আর নিষ্ঠুরতার সর্বোচ্চ সীমা ছাড়িয়ে যাওয়া চেঙ্গিস খান ও তার মঙ্গোল বাহিনীর অধ্যায়টা যখন পড়ছিলাম, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের কেন্দ্রবিন্দু বাগদাদ সহ মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোকে যখন মঙ্গোল বাহিনী মাটির সাথে মিশিয়ে দিচ্ছিলো, কোটি কোটি মুসলিমের মাথা কেটে তা দিয়ে যখন চেঙ্গিস খান পিরামিড বানাচ্ছিল তখন ভাবছিলাম, ইসলামী সভ্যতা বুঝি চিরকালের জন্য পৃথিবী থেকে হারিয়ে গেলো। কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো তুর্কিস্থানের কায়ী গোষ্ঠীর সর্দার সুলতান সোলেমানের পুত্র আর্তুগরুল বে এর সন্তান ওসমানের হাত ধরে সুলতান মুহাম্মদ প্রথিবীতে আবার প্রতিষ্ঠিত করলো ইসলামী খেলাফত। সত্যি অবিস্বাশ্য!

    #Muhammad_Sajal ভাই ধন্যবাদ দিয়ে আপনার এই সাফল্যকে ছোট করবো না। দেশবাসীকে এতো সুন্দর একটি বই উপহার দেয়ার জন্য এই গুনাগারের পক্ষ থেকে আপনার জন্য রইলো অজস্র সালাম ও ভালোবাসা।
    সেই সাথে গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্স এর জন্য রইলো শুভ কামনা।

  • kamal Ahmed says:

    “This is a time travel, Start your journey”- বাক্যটিকে “সানজাক-ই উসমানের” শ্লোগান ধরে যদি পরিভ্রমণ করেন “অটোমানদের দুনিয়ায়”, মোটেও মন্দ যাবেনা আপনার সময়-এটুকু নিশ্চয়তা দিতে পারি!
    লেখক প্রিন্স Muhammad Sajal এর কথামতো, গতানুগতিক ইতিহাসের বাইরে গিয়ে আপনি এই পরিভ্রমণে পাবেন অন্যরকম স্বাদ, তৃপ্তি ও পরিতৃপ্তি!
    পথে পথে অনুভব করবেন শিহরণ। মহাকালের মহান মানুষদের কাল পরিবর্তনকারী অভিযানে শরীক হয়ে উপভোগ করবেন অন্য রকম এডভেঞ্চার!
    এখানে পাঠক শুধু দর্শক নয়, অংশীদার!
    ,
    লেখক আমাদেরকে ভ্রমণের সুযোগ দিয়েছেন চেঙ্গিস খানের শৈশব থেকে কন্সটান্টিনোপল বিজয়ী সুলতান মুহাম্মদ ফাতেহ’র ওফাত পর্যন্ত!
    চলুন দেখা যাক একজন পরিব্রাজকের দৃষ্টিতে “অটোমানদের দুনিয়ার” রুপ-সৌন্দর্য! শোনা যাক ক্রুসেডের ঝংকার ধ্বনি, তাকবীরে মুখোরিত আইনে জালুত; বজ্রনির্ঘোষ গগণবিদারী আল্লাহু আকবারে মুখোরিত নিকোপলিসের ময়দান!
    ,
    বইটি যাত্রা শুরু করেছে চেঙ্গিস খানের শৈশব থেকে। পরবর্তী জীবনে তার নৃশংস হত্যাকান্ড ঘটানোর পিছনের কারণ জানতে হলে শৈশবকালকে বুঝতে হবে।
    নিজের প্রিয়তমা স্ত্রীর অপহরণ, দিনের পর দিন সৎ ভাইয়ের হাতে নিজের মায়ের ধর্ষিতা হওয়া অবলোকন, স্বগোত্র থেকে বহিষ্কৃত হওয়া, দারিদ্র্যের কষাঘাত ইত্যাদি ঘটনাবলী নি:সন্দেহে তার হৃদয়কে দিয়েছে কাঠিন্য, স্বভাবে এনেছে পাষন্ড্যতা।
    এরপরে আমরা দেখতে পাব, চেঙ্গিস খানের তরবারী পৌঁছে গেছে মুসলমানদের শাহরগে। লক্ষলক্ষ ছিন্নমাথা আছড়ে পড়ছে পথেঘাটে, বনেজঙ্গলে। ছিন্নমস্তক দিয়ে গড়ে উঠছে বিশাল পিরামিড!
    সামগ্রিকভাবে মুসলিমজাতি যে অধ:পতনের দিকে যাচ্ছিল সেখান থেকে ফেরার জন্য এমন নির্মম এক ঝাঁকুনির প্রয়োজন ছিল। বাগদাদের পতন ও ধ্বংসযজ্ঞ যেকোন মুসলিম মানসকে আহত করতে পারে কিন্তু এর চেয়ে উত্তম ফলাফলের যোগ্যতা ঐ সমাজের ছিলনা তা মেনে নিতেই হবে। লেখক এই বিষয়টি খুব স্পষ্টভাবে দেখিয়েছেন।
    ,
    আরেকটু সামনে অগ্রসর হলে আমরা দেখব আল্লাহপাকের ইচ্ছায় মাত্র কয়েক দশকের মাঝেই চেঙ্গিস খানের বংশধর ও মঙ্গলদের বিশাল এক অংশ ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নিয়েছে। আল্লাহপাকের সেই বাণীটিই যেন প্রমাণিত হল, দ্বীন কোন নির্দিষ্ট জাতির উপর নির্ভরশীল নয়। বরং তিনি ইচ্ছা করলে এক জাতির স্থলে অন্য জাতিকে প্রতিস্থাপিত করতে পারেন!
    ইসলামি সালতানাতের অস্তিত্ব অনেকটাই মামলুকদের কাছে ঋণী। সুলতান সাইফুদ্দীন, সুলতান বাইবারস ও সুলতান কালাউন যদি মঙ্গলদের সামনে সীসাঢালা প্রাচীর হয়ে না দাঁড়াতেন তাহলে মক্কা-মদিনা থেকে তাতারিদের দূরে রাখার কেউ ছিলনা। কিন্তু আমরা অনেকেই হয়ত জানিনা, মামলুক সুলতানদের পরোক্ষভাবে সাহায্য করেছিলেন মঙ্গলদের থেকে মুসলিম হয়ে যাওয়া অংশটি। তাদের সাহায্য না পেলে এই বিশাল তাতার বাহিনী- যাদের সাথে যুক্ত হয়েছিল খ্রিষ্ট ক্রুসেডাররাও- টিকে থাকা মুশকিল হয়ে যেত। লেখক প্রিন্স মুহাম্মদ সজল সেদিকেও সযত্ন দৃষ্টি রেখেছেন!
    ,
    আরেকটি সামনে গিয়ে জানতে পারব, বিশাল এই মঙ্গল গোষ্ঠীর ইসলামে আসার পিছনে নীরব ভূমিকা রেখেছিল ঐসব আত্মোৎসর্গ মুসলিম মা-বোনেরা যাদেরকে চেঙ্গিস বাহিনী যৌনদাসী হিসেবে বন্দী করেছিল হেরেমে।
    হেরেমের জীবন নিশ্চয় সুখের ছিলনা কিন্তু তাদেরই গর্ভজাত সন্তানেরা ইসলামে আসার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল! আমাদের উপমহাদেশীয় মুঘল সম্রাটদের ইসলামচ্যূত করার পিছনে যেমন সবচে প্রভাবক ভূমিকা ছিল হেরেমে আগত হিন্দু রমণীদের। তেমনি তাতার চিন্তা চেতনা পালটে দিতেও ভূমিকা রেখেছিল হেরেম! আসলে হেরেম এক কারখানা যার উপর নির্ভর করে জাতির ভবিষ্যৎ উৎপাদন!
    ,
    এরপর হে পাঠক! আপনি প্রবেশ করবেন অটোমানদের দুনিয়ায়! দিরিলিস আরতুগুল থেকে উসমান হয়ে ওরহান, বায়জীদ ইলদিরিম, মাহমুদ, মুরাদ ও সুলতান মুহাম্মদ ফাতেহ’র ইতিহাস পরিবর্তনকারী অভিযানের রোমাঞ্চকর দুনিয়ায় আপনার পদার্পণ! কীভাবে একের পর এক ধেঁয়ে আসা ক্রুসেডারদের মোকাবেলা করছে বীর Turkey বাহিনী!
    কীভাবে বিজয় হল হাজার বছরের অপরাজেয় কন্সটান্টিনোপল!
    কীভাবে বিলুপ্ত হয়ে গেল শতশত বছর ধরে চলে আসা রোমান সম্রাজ্য!
    আরও অনেক কিছু জানতে হলে আপনাকে পড়তে হবে সানজাক-ই-উসমান!
    ,
    সাহিত্যের আলোকে এর চেয়েও উত্তম বই লেখা সম্ভব! কিন্তু আমি এর প্রশংসামুখর পাঠক এই কারণে যে, গৎবাঁধা অনুবাদ কর্মের বাইরে গিয়ে লেখক মৌলিক কিছু করার চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন এবং সফল হয়েছেন!
    বইটি ইতিহাসের বই কিন্তু ধাঁরাবাধা ইতিহাসের কপচানি থেকে মুক্ত! বরং থ্রিলারের অদ্ভুত এক ছোঁয়া পাবেন প্রতি মুহূর্তে। বইটি ড্রামা সিরিয়ালের মত, একটি পর্ব শেষ হওয়ার আগেই চাইবেন আরেকটি পর্ব দেখতে!
    ঘটনার উত্থান-পতনে শিউরে উঠবেন!
    মধ্যযুগীয় ইউরোপ ও আধুনিক ইউরোপের স্বরুপ জানতে সাহায্য করবে বইটি!
    অনেক সময়ই মনে হবে, ইস! এমন যদি হত! অমন যদি না হত!
    কুখ্যাত সিরিয়াল কিলারের পরিচয় থেকে আন্দালুসিয়ার কুখ্যাত বিশ্বাসঘাতকের দেখা মিলবে পাতায় পাতায়!
    ,
    শেষে গিয়ে একটা কথাই মনে হবে, ইতিহাস শিক্ষার জন্য! আমরা কি ইতিহাসের সাথে নিজেকে মেলাই? নাকি সেরফ বিনোদনের জন্য পাঠ করি? এর উত্তরই বলে দেবে বইটি কতটুকু উপকারিতা পৌঁছাবে আমাদের জীবনে!
    ৪৩২ পৃষ্ঠার চমৎকার এই বইটি প্রকাশিত হয়েছে গার্ডিয়ান পাবলিকেশন থেকে! মূল্য,,,,,,,,
    বই কি মূল্য দিয়ে বিচার করা যায়!

  • Shafin Ibrahim Hossain says:

    রিভিউ: সানজাক ই উসমান
    —–
    “কিয়ামত ততদিন পর্যন্ত সংঘটিত হবে না, যত দিন না লাল মুখওয়ালা, ছোট ছোট তীর্যক চোখ ও চ্যাপ্টা নাকবিশিষ্ট তাতারেরা তোমাদের ওপর চড়াও হবে। তারা পূর্বদিক থেকে আসবে এবং তারা পশম লাগানো চামড়ার জুতা পরবে, আর তাদের মুখ হবে ঢালের মত প্রশস্ত। তারা তোমাদের এমনভাবে আচ্ছন্ন করে ফেলবে, যেমন করে পঙ্গপালের ঝাঁক আকাশকে ঢেকে দেয়।”

    সহিহ বুখারি: হাদিস নং ২৭৭০।

    এই ভবিষ্যদ্বানী মিথ্যা হয়নি। সত্যি সত্যি রাসূল (সাঃ) এর ওফাতের সোয়া ছয়শ বছর পর পূর্বদিকে এক ঝড় ওঠে, চেঙ্গিস খানের তলোয়ারের ধারে বদলে যেতে থাকে দুনিয়ার মানচিত্র। ধ্বংস হয় চীনের জি জিয়া, জিন ও সং সাম্রাজ্য, তারপর নিশ্চিহ্ন হয় পৃথিবীর বুকে মুসলিম সাম্রাজ্যের প্রতীক আব্বাসিয়া খিলাফত ও খাওয়ারিজম সাম্রাজ্য। ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয় পূর্বে পোল্যান্ড থেকে পশ্চিমে কোরিয়া, উত্তরে সাইবেরিয়া থেকে দক্ষিনে উত্তর ভারত পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা। সেই ধ্বংসস্তুপের নিচ থেকে উসমানিয়া খিলাফতের নেতৃত্বে পরবর্তীতে ঘুরে দাঁড়ায় মুসলিম জাহান।

    যদি উপন্যাসের ভাষায় ত্রয়োদশ-পন্ঞ্চদশ শতকের রাজনীতি ও ইতিহাস সম্পর্কে নিখুঁতভাবে জানতে চান (“নিখুঁতভাবে” বলতে ১০০% সত্য ইতিহাসের কথাই বলছি), সেই সাথে ঐতিহাসিক সত্যকে অবিকৃত রেখে অ্যাকশন ও থ্রিলারের অভিজ্ঞতা নিতে চান, তাহলে বইটি সুখপাঠ্য।

    বইয়ের নাম: সানজাক ই উসমান।

    লেখক: প্রিন্স মুহাম্মাদ সজল। লেখকের প্রথম বই এটি।

    ক্যাটাগরি:

    মূলত ইতিহাস। অথবা বলতে পারেন “ঐতিহাসিক থ্রিলার”। দ্বিতীয়টিই বরং অধিক যুক্তিযুক্ত। বইটি লিখতে কোন কল্পনার আশ্রয় নেয়া হয়নি, ত্রয়োদশ-পন্ঞ্চদশ শতকের মধ্যকার ইতিহাসকে রেফারেন্সসহ সম্পূর্ণ অবিকৃতভাবে এবং উপন্যাসের ভাষায় লেখা হয়েছে। লেখকের ভাষ্যমতে, বইয়ের ভাষ্যগুলোকে অবিকৃত রাখার জন্য তাঁকে প্রায় চার হাজার দেশী-বিদেশী আর্টিকেল ও অর্ধশতাধিক বই পড়তে হয়েছে।

    প্লট:

    সাতটি অধ্যায় ও ৪৩০ পৃষ্ঠার এ বইটি মূলত উসমানিয়া সাম্রাজ্য (পশ্চিমে যাকে অটোমান সাম্রাজ্য বলে ডাকা হয়) নিয়ে লেখা। মোটামুটি আরতুরুল বের শাসন থেকে ১৪৮১ সালে সুলতান ফাতিহ মেহমেদের মৃত্যু পর্যন্ত। তবে ঐ সময়ের রাজনীতি বুঝার জন্য চেঙ্গিস খান ও তার সুবিশাল সাম্রাজ্য সম্পর্কে শুরুতেই দুটো অধ্যায় লিখতে হয়েছে।

    কিভাবে এক মোঙ্গল গোত্রপ্রধান তেমুজিন পরিণত হলেন দিগ্বিজয়ী চেঙ্গিস খানে? কিভাবে তিনি জয় করলেন সমগ্র চীন? কিভাবে মূর্খের মত আত্মসমর্পন করলেন খাওয়ারিজমের শাহ ও বুখারার অভিজাতরা? কিভাবে চেঙ্গিস খান মাটির সাথে মিশিয়ে দিলেন খাওয়ারিজম সাম্রাজ্যের রাজধানী উরগন্জ ও আব্বাসীয়া খিলাফতের রাজধানী বাগদাদকে? কেন ও কিভাবে ধ্বংস হল খিলাফত? কিভাবে ও কেন তার ও তাদের বংশধররা হত্যা করল সাড়ে চার কোটি মানুষকে, শুধু তীর-ধনুক, তলোয়ার ও গানপাউডারের সাহায্যে? পরবর্তীতে কে বা কারা রুখে দিল মোঙ্গলদের পশ্চিমগামী অভিযান? কে ই বা ছিলেন সাইফ উদ্দিন কুতুজ, কিংবা রুকনুদ্দিন বাইবার্স?

    সেখান থেকে কিভাবে মুসলিমরা বিশ্বের নিয়ন্ত্রন ফিরে পেল? কিভাবে উসমানিয়া/ অটোমান সালতানাত প্রতিষ্ঠিত হল উসমান বিন আরতুরুলের হাতে? কিভাবে এই সালতানাত পরিণত হতে থাকল সাম্রাজ্যে? কিভাবে ভেঙে পড়তে লাগল বাইজান্টাইন সাম্রাজ্য? কিভাবে ওরহান, বায়েজিদ ইয়িলদিরিমরা ক্রমাগত হুমকি হয়ে উঠতে লাগলেন ইউরোপের জন্য? কিভাবে ফাতিহ মেহমেদ হাজার বছরের পুরনো থিউডোসিয়ান ওয়াল ভেঙে জয় করলেন কনস্ট্যান্টিনোপল, ও তার নামকরন করলেন ইসলামবুল (যেটার বিকৃত রূপ হচ্ছে ইস্তাম্বুল, বর্তমানে এটাই শহরটির অফিসিয়াল নাম)? এগুলো নিয়েই মূলত বইটি।

    আমার মন্তব্য:

    একটি বই তখনই সার্থক হয় যখন সে পাঠকের মন জয় করতে পারে, পাঠক যা চায় তা পূরণ করতে পারে। কারন, বই হল মনের খোরাক, এবং অন্যান্য মনের খোরাকের মত এটার পেছনেও অর্থ খরচ করতে হয়। তাই পাঠকের মন জয় করা বইয়ের এবং লেখকের জন্য জরুরী।

    সত্যি বলতে গতানুগতিক সাহিত্য বলতে যা বুঝায়, অর্থাৎ প্রেম রিলেটেড গল্প কিংবা উপন্যাস- এগুলো সযত্নে পরিহার করি। এগুলোর দিকে বিশেষ ঝোঁক নেই। আমার পছন্দ ইনফরমেটিভ আর্টিকেলস, বিভিন্ন টপিকে বিভিন্ন রকম এনালাইসিস, ইনফরমেটিভ ইউটিউব ভ্লগস, বিভিন্ন রাজনীতিবিদদের লেখা রাজনীতির বই, যুদ্ধের বই, ইতিহাসের বই। পাশাপাশি ফেলুদা/ মাসুদ রানার মত বইগুলো, যেগুলো পড়লে মাথা খাটানো যায়, এবং একই সাথে সাসপেন্সে ভর্তি।

    সুতরাং যখন এই বইটি অর্ডার করে এনে পড়তে শুরু করলাম, দুপুর ১টা থেকে শুরু করে রাত দেড়টা- এই বারো ঘন্টা কিভাবে কেটে গেছে, বুঝতে পারিনি। রাজনীতি- পেয়েছি। সাসপেন্স- পেয়েছি। যুদ্ধ- এটাও পেয়েছি। ইতিহাস- পেয়েছি। আমার জন্য রীতিমত কমপ্লিট একটা প্যাকেজ ছিল এটি।

    এবং আরো আশ্চর্যের ব্যপার হল, বইটা পড়ে মনেই হয়নি যে এটা লেখকের প্রথম বই। পাবলিকেশন্সের দুয়েকটা ছোটখাটো ভুল ছাড়া মোটামুটি সবই ঠিক আছে। সো ব্যক্তিগতভাবে আমি বইটিকে ১০ এ ৮.৬ দিব।

    রেটিং:

    ৮.৬/১০ (এটা আমার ব্যক্তিগত রেটিং, ইট মে ভ্যারি ফ্রম পার্সন টু পার্সন।)

    লেখক পরিচিতি:

    (সরাসরি বই থেকেই তুলে দিচ্ছি।)
    প্রিন্স মুহাম্মাদ সজল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট এর মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। বিজ্ঞানের ছাত্র হলেও ইতিহাস, ভূগোল, আন্তর্জাতিক রাজনীতির তিনি একজন উৎসাহী পাঠক। তাঁর লেখাতেও এসবের ছাপ স্পষ্ট। এর বাইরে তিনি ফুটবল নিয়ে লেখালেখি করেন শখের বশে। দেশের বৃহত্তম ফুটবল কমিউনিটিগুলোর একটি Football Maniacs of Bangladesh এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবেও তাঁর পরিচিতি আছে। লেখক স্বপ্ন দেখেন সাম্য, ইনসাফ ও মর্যাদার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এক পৃথিবীর, যেখানে ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসার বন্ধন ভিন্ন ভিন্ন মত পথের মানুষকে একই সুতোয় বেঁধে রাখবে।

    এক নজরে বইয়ের পরিচিতি:

    নাম: সানজাক ই উসমান

    লেখক: প্রিন্স মুহাম্মাদ সজল

    প্রকাশনা: গার্ডিয়ান পাবলিকেশন

    অধ্যায়: ৭

    পৃষ্ঠাসংখ্যা: ৪৩০

    মূল্য: হার্ডকভার ৫০০ টাকা
    পেপারব্যাক ৪৫০ টাকা

    (বিঃদ্রঃ এখন রকমারিতে ৩৭৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে)

    সো এই ছিল “সানজাক ই উসমান” বইটির রিভিউ। বইটি পড়ে আমি হতাশ হইনি, আমার সময় ও অর্থ দুটোই সার্থক। আশা করি আপনারাও হতাশ হবেন না। ধন্যবাদ।

  • Ahsan Bin Zaman says:

    #বুক রিভিউ
    বইঃ সানজাক-ই-ওসমান
    লেখকঃ প্রিন্স মুহাম্মদ সজল
    মুদ্রিত মূল্যঃ হার্ডকভার ৫০০, পেপারব্যাক ৪৫০।
    গার্ডিয়ান প্রকাশনী

    “কিয়ামত ততদিন পর্যন্ত সংঘটিত হবে না যত দিন না লাল মুখওয়ালা, ছোট ছোট তির্যক চোখ ও চ্যাপ্টা নাক বিশিষ্ট তাতারেরা তোমাদের উপর চড়াও হবে।তারা পূর্বদিক থেকে আসবে এবং পশম লাগানো চামড়ার জুতা পরবে, তাদের মুখ হবে ঢালের মতো প্রশস্ত। তারা তোমাদের এমন ভাবে আছন্ন করে ফেলবে যেমন করে পঙ্গপালের ঝাক আকাশকে ঢেকে দেয়”
    সহীহ বুখারীঃ ২৭৭০

    রাসূলের এই হাদীসটি সত্য হয় ওনার মৃত্যুর আরো সাড়ে পাঁচশ বছর পরে।
    পৃথীবিতে কেয়ামতের আগে যেন নেমে আসে যেন আরেক কেয়ামত।
    ত্রয়োদশ শতাব্দীর শুরুতে মোঙ্গলিয়ান স্তেপ থেকে উঠে আসে এক ঝড়, এই ঝড়ের নাম মোঙ্গল ঝড়, আর এটার নেতৃত্বে ছিলেন নিজেকে ঈশ্বরের পক্ষ থেকে আযাব দাবী করা চেঙ্গিস খান।
    মাত্র ২০ বছরের মধ্যে নরকে পরিনত হলো পৃথীবি, বদলে গেল পৃথীবির মানচিত্র।
    চীনের জি জিয়া,জিন থেকে শুরু করে তুর্কিস্তান, মার্ভ, তুস,খোরাসান, ককেশাস, রাশিয়া, হিন্দুস্তান কেউ ই রক্ষা পায় নি এই ঝড়ের কবল থেকে। এমন ই এক ঝড় যা যতদূর আগায় পিছনে ফেলে যায় ধ্বংস আর লাশের স্তুপ, কোন রাজ্য জয় করলে সেখানের ঘর-বাড়ি দোকান-লুট করা হয় তারপর সেখানের বাসিন্দদের নিরাপত্তার কথা বলো নিরস্ত্র করে খোলা জায়গায় দাড় করায় তার পর শুরু করে হত্যা কান্ড, কখনো কখনো সৈন্যপ্রতি হত্যার সংখ্যা দাড়ায় ৩০০-৪০০ জন।
    এর মধ্যে আবার তাদের নিয়ে ছড়িয়ে পড়ে একটা গুজব, যা তাদের যুদ্ধ জয়ে ভূমিকা রাখে, তা হলো ইয়াজুজ-মাজুজ ভীতি।
    ইসলামে যেহেতু বলা আছে কেয়ামতের আগে পৃথিবীতে ইয়াজুজ মাজুজ এর আগমন ঘটবে।
    তাদের নৃশংসতা দেখে লোকে তাদের ইয়াজুজ মাজুজ ভাবতে শুরু করে

    চেঙ্গিস খান মারা গেলে ও ঝড় থামার কোন লক্ষন ই ছিলো না, তার দেখানো পথ ধরেই সমান তালে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যায় তার বংশধরেরা,
    তার ই এক বংশধর হালাকু খানের হাতে ধ্বংস হয় আরব্য রজনীর বাগদাদ
    তৎকালীন মুসলিম জাহানের কেন্দ্রবিন্দু, জ্ঞান-বিজ্ঞানের রাজধানী বাগদাদ।
    বলা হয়ে থাকে তখনকার পৃথিবীর দশ বইয়ের নয়টির ই কপি ছিলো বাগদাদের লাইব্রেরিতে।
    বাগদাদ পতনের পর শুধু মুসলিম জাহান না সমগ্র বিশ্ব ই বড়সড় ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

    আবার ওদিকে চেঙ্গিস খানের বংশধরদের অনেকেই চলে আসে ইসলামের ছায়াতলে,
    তাদের একজনের নাম বারকি খান।
    বাগদাদ পতনের কথা তার কাছে পৌছায় ছয় মাস পর, শুনে সে ক্ষোভে ফেটে পড়ে।
    এবং প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞা বদ্ধ হয়।শুরু হয় মোঙ্গলদের মাঝে গৃহযুদ্ধ।

    ওদিকে বাগদাদ এর পর তারা হাত বাড়ায় মিসরের দিকে।
    মিসরে তখন মামলুকদের রাজত্ব, মামলুকরা সাধারণত দাসের জাত।তাদের সুলতান ও উঠে আসে দাস থেকেই।
    এই মামলুকরা ই আইন-জালুতের যুদ্ধে মোঙ্গলদের ট্যাকটিক্স ব্যবহার করে তাদের ই হারিয়ে দেয়।

    যে দুর্দান্ত দাপট নিয়ে মোঙ্গলরা শুরু করেছিল। শক্তি সামর্থ আর দানবীয় নিষ্ঠুরতা নিয়ে যে কিংবদন্তীর জন্ম হয়েছিল তা বড় সড় ধাক্কা খায় আইন-জালুতের যুদ্ধে সাইফউদ্দিন কুতুজের হাতে কিতবুকার পরাজয়ে।এই যুদ্ধে আরো একজনের কথা না বললেই নয় তিনি হলেন সুলতান বাইবার্স যাকে দ্য প্যান্থার বলে ও ডাকা হয়।
    বাগদাদ পতনের দুবছরের মাথায় মামলুকরাি আবার বাগদাদকে গড়ে তুলতে এগিয়ে আসে।

    মোঙ্গলদের হাত থেকে কোন মতে প্রান বাচিয়ে ইরান-তুর্কিস্তান থেকে আনাতেলিয়র দিকে রওয়ানা হয় কিছু মানুষ, তাদের মধ্যে একজনের নাম গাজী আরতুরুল বে ।
    আনাতেলিয়ায় পাহাড়ের উপর থেকে দেখেন নিচে যুদ্ধ হচ্ছে, কার কার মধ্যে যুদ্ধ হচ্ছে তিনি তার কিছুই জানেন না।তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি ও যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবেন।দুর্বল দলের পক্ষ থেকে, তিনি যখন দেখলেন একটা দল অপর দলকে ঘিরে আসছে তখন তিনি তার লোকদের নিয়ে ঝাপিয়ে পড়লেন সবল দলের উপর।
    তার অপ্রত্যাশিত আক্রমনে যুদ্ধের মোড় ঘুরে গেল এবং দুর্বল দলটি জয় লাভ করলো।

    যুদ্ধটি ছিলো সেলজুক আর মোঙ্গলদের পক্ষে এবং তার সাহায্যর কারনে সেলজুকরা যুদ্ধে জয় লাভ করে।
    এবং তারা খুশি হয়ে আরতুরুল বে কে আনাতেলিয়ার সবচেয়ে ছোট বেইলিক দান করেন।

    বাগদাদের দেয়াল ভেঙ্গে যেবার হালাকু খানের সৈন্যরা ঢুকে পড়ছিলো সেই বছরের শীতেই আনাতেলিয়ার উত্তর-পশ্চিমে সেগুত নামের ছোট একটা শহরে কায়ি গোত্রের বে আরতুরুল গাজীর ঘরে একটা ফুটফুটে শিশুর জন্ম হয়।

    বাচ্চাটার নাম ওসমান, ওসমান মানে হাড় গুড়িয়ে দেওয়া পলোয়ান।সেই ওসমান যার নামেই এই বইয়ের নামকরন।

    ধীরে ধীরে ওসমান বড় হতে লাগলো সাথে আরতুরুল বে এর ছোট বেইলিক টাও।

    একদিন ওসমান তার বাবার সাথে তার বাবার আলেম-দরবেশ বন্ধু এদেব আলীর বাড়ি বেড়াতে যান।

    তিনি সেখানে রাতে থেকে গেলেন।
    ভোরের কাছাকাছি সময়ে তিনি এক অদ্ভুত স্বপ্ন দেখলেন।

    তিনি দেখলেন শায়খ এদেব আলীর বুক থেকে একটা চাঁদ উঠলো, সেই চাঁদ এসে ঠাই নিলো ওসমানের বুকে।তারপর তার নাভি ঢেকে গজিয়ে উঠলো এক বিশাল গাছ।

    গাছটি সুন্দর সবুজ ডালপালায় ভরে উঠলো, সময়ের সাথে গাছটি বড় হতে হতে পেরিয়ে যেতে লাগলো চারটি পর্বতমাল; বলকান, আলবুর্জ,ককেশাস আর এটলাস।
    গাছের শেকড় থেকে বইতে লাগলো চার চারটি নদী, দানিয়ুব, ইউফ্রেতিস, তাইগ্রীস আর নীল।গাছের পাতাগুলো রূপ নিলো তরবারির ফলায়।
    সে বাতাসে একেকটি পাতা একেকটি তরবারি হয়ে উড়ে যেতে লাগলো কনস্ট্যান্টিনোপল এ।
    দুই মহাদেশ আর দুই সমুদ্রের দেশ।

    তারপর কনস্টান্টিনোপল পরিনত হলো আংটির কেন্দ্রে সেই আংটি ওসমান যখন হাতে পরলেন তখন তার ঘুম ভেঙ্গে গেল।

    কি ছিলো সেই স্বপ্নের ব্যাখা? কিভাবে ওসমান ও তার উত্তরসূরি ওরহান, মুরাদ, বায়েজিদ, মুহাম্মদ, দ্বিতীয় মুরাদ আর তার বেয়াড়া ছেলে দ্বিতীয় মোহাম্মদ তার দেখা স্বপ্নের বাস্তব রূপ দিলেন?
    কিভাবে গড়ে তুললেন বিশাল এক সালতানাত, আবার ভেঙ্গে যাওয়া সালতানাত নিয়ে নিয়ে কিভাবে ঘুরে দাড়ালেন।

    কিভাবে রাসূল (সঃ) এর ভবিষ্যতবাণী সত্য হলো, “নিশ্চয় কনস্টান্টিনোপল মুসমানরা জয় করবে, কত সৌভাগ্যবান সেই যুদ্ধের সৈন্যরা কত সৌভাগ্যবান তাদের নেতা”
    অবশ্য কনস্টান্টিনোপল জয়ের জন্য অনেক মূল্য দিতে হয়েছে সেই ইয়াজিদ থেকে শুরু করে আব্বাসিয়া খলিফা সুলেমান ব্যর্থ হওয়ার পরে কিভাবে অটোমানরা জয় করলো?

    জানতে হলো পড়ে ফেলুন সানজাক-ই-ওসমান।
    এটা কোন নিয়মিত ইতিহাসের বই নয়।এটা একই সাথে ইতিহাস ফিকশন আর থ্রিলার।আজকের পৃথীবি কিভাবে নির্মান হলো তা জানতে এই বই আপনাকে সাহায্য করবে, ইনশাআল্লাহ।

    “This is the time travel
    Start your journey!!

    —-
    ব্যাক্তিগত কিছু কথা
    বইটি লেখার জন্য লেখককে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে, তা বইটি হাতে নেওয়ার পরে বুঝতে পেরেছি,
    বইয়ের তথ্যগুলো তিনি নির্ভরযোগ্য সোর্স থেকে নিয়েছেন এবং বইয়ের প্রতি পৃষ্ঠার নিছে লেখক জুড়ে দিয়েছেন তথ্যসূত্র।
    একটা মজার ব্যাপার হলো বইয়ের পান্ডুলিপি তিনি পুরোটাই টাইপ করেছেন ফোনের মাধ্যমে।
    লেখককে একবার প্রশ্নকরা হয়েছে কেন তিনি বইটি লিখছেন, তিনি উত্তর দিয়েছিলেন ইতিহাসের দায় মিটাতে।
    অনান্য বই বা টিভি সিরিয়ালে যেভাবে ইতিহাস বিকৃত করা হয় তা দেখে, পাঠকদের সত্য ইতিহাস জানানোর জন্য ই বইটি লিখা।

    আর বইয়ের কাগজের মান, বাইন্ডিং, কাভার খুবই উন্নত মানের যা বাংলাদেশে সচরাচর দেখা যায় না।এজন্য গার্ডিয়ান প্রকাশনী সত্যই প্রশংসার দাবিদার 😊

  • Sohel says:

    আমি এ বইটি রকমারিতে ৬ মাস ধরে খুজতেছি, কিন্তু পাচ্ছি না।

    • guardianpubs says:

      বইটি ১৫ জানুয়ারি থেকে এভেইলএভল হবে ইনশাআল্লাহ্‌। নতুন সংস্করণের জন্য আমরা কিছু কাজ করছি। দেরি হওয়ার জন্য দুঃখিত। ১৫ জানুয়ারি থেকে রকমারিতে পাবেন ইনশাআল্লাহ্‌।

  • Leave a Reply

    Your email address will not be published. Fields with * are mandatory.

    গার্ডিয়ান পাবলিকেশন © ২০১৭-১৮
    Developed by: Al-Amin Firdows