দ্যা রিভার্টসঃ ফিরে আসার গল্প


দ্যা রিভার্টস

লেখকঃ কানিজ শারমিন, শামছুর রহমান ওমর

ক্যাটাগরিঃ ফিরে আসার গল্প

প্রকাশের সালঃ ২০১৮

প্রচ্ছদ অলং‍করণঃ এস এম অর্ণব হাসান রিফাত

মূল্যঃ ৩৬৫ (হার্ড কভার)

আইএসবিএন নংঃ 978-984-92959-8-3

সংস্করণঃ ২য়

মলাটঃ জেল বাইন্ডিং

পৃথিবীর ১৩ জন বিখ্যাত মানুষ। তাঁরা কেউবা ছিলেন খ্রিস্টান কেউ ইহুদী আর কেউবা হিন্দু। তাঁরা ফিরে এসেছেন চিরশান্তির পথ ইসলামে। তাঁদের এই জার্নিটা মোটেও সহজ ছিল না। তাঁদের ইসলামে ফিরে আসার এই জার্নি নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে ‘দ্যা রিভার্টস: ফিরে আসার গল্প’ বইটি।

আফগান যুদ্ধ কাভার করতে এসে তালেবানদের হাতে ধরা পড়লেন এক নারী সাংবাদিক।

অন্যদিকে, ফিলিস্তিনের গাজায় এসে আটকে গেলেন এক ব্রিটিশ তরুণী। তারপর কী হলো তাদের?

একজন খ্রিস্টান পাদ্রী, একজন ধার্মিক বৌদ্ধ, অনুশাসন মানা একজন হিন্দু যুবক আর মামার আমন্ত্রনে ফিলিস্তিনে ঘুরতে আসা পোলান্ডের এক ইহুদী তরুণ। চার ধর্মের চারজন। কেমন করে পাল্টে গেলেন সবাই?

বাবরি মসজিদ নিজ হাতে ভেঙেছেন বলবির সিং। এক সময়ে যা নিয়ে অনেক গর্ববোধ করতেন। কিন্তু তার মনে কীসের এত ব্যথা আজ? বাবরি মসজিদ ভেঙে দেওয়া হাত আজ কেন মসজিদ গড়ার কাজে ব্যস্ত?

লন্ডনের বুকে বেড়ে ওঠা তিন যুবক। টাকা-পয়সা, অর্থ-বিত্ত, খ্যাতির কোন অভাব নেই। তবুও শান্তি নেই মনে। শান্তির আশায় কত কী করে গেলেন! পেয়েছিলেন কী?

আধুনিক আমেরিকার দুজন মানুষ। একজন অবিশ্বাসী নাস্তিক। অন্যজন সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের স্বপ্নে বিভোর। দুজনের জীবনে নাটকীয় পরিবর্তন এল। কিন্তু কী করে?

MTV চ্যানেলের বিশ্ববিখ্যাত এক উপস্থাপিক। পুরো ইউরোপের ঘরে ঘরে পরিচিত মুখ। একদিন দেখা হলো, পাকিস্তানের বিশ্বকাপ জয়ী ক্রিকেটার ইমরান খানের সাথে। তারপর?



বইটির কয়েক পৃষ্ঠা পড়ুন


 Comments 6 comments

  • Abduz Zaher Rashed says:

    বই রিভিউ: দ্যা রিভার্টস: ফিরে আসার গল্প
    লেখক: শামসুর রহমান ও কানিজ শারমিন
    প্রকাশনি: গার্ডিয়ান পাবলিকেশন
    রিভিউ লিখেছেন: Abduz Zaher Rashed

    বইমেলা থেকে এবার যে বইগুলি নিয়েছি,অন্যতম একটি হল, “দ্যা রিভার্টস”। এতদিন ব্যস্ততার কারণে বইটি পড়তে না পারলেও, তিনদিন পর অাজ বইটি পড়া সমাপ্ত হল।

    “রিভার্টস” শব্দের অর্থ হচ্ছে,”প্রত্যাবর্তন “বা ফিরে অাসা।
    হ্যা, বইটিতে ফিরে অাসার গল্পই বলা হয়েছে।

    তবে এখানে কোনো এডভেঞ্চারের জীবনযুদ্ধে মৃত্যু থেকে বেঁচে যাওয়ার গল্প শোনানো হয়নি,কিংবা অনেকদিন পরে হারিয়ে যাওয়া কোনো শিশুর মায়ের কোলে ফিরে অাসার গল্প ও বলা হয়নি।

    এখানে বলা হয়েছে জীবনের লক্ষ বা জীবনের মানে খুজতে গিয়ে যারা জীবনের লক্ষ্য বুঝতে পেরেছেন,স্রষ্টার অাসল পরিচয় পেয়েছেন এবং ফিরে পেয়েছেন শান্তির উৎস, স্বর্গীয় পথ-তাদের কথা। যারা জীবন-যৌবনের শুরুতে নিজেদের অস্তিত্বদাতা মহাবিশ্বের প্রভু সম্পর্কে ছিলেন সন্দিহান কিংবা অবিশ্বাসী,অতঃপর ফিরে পেলেন স্বীয় সত্তাকে,স্বীয় প্রভুর পরিচয়। এমন তেরোজন লোকের জীবনের শ্রেষ্ঠ গল্প নিয়ে বইটি সাজানো হয়েছে।

    বইটির গল্পসমূহ বিভিন্ন ভাষা থেকে রুপান্তর করে বাংলায় লিখেছেন সামছুর রহমান ও কানিজ নামে দুজন।
    সামছুর রহমান ওমর ও কানিজ শারমিন একটি দম্পতির নাম। লেখকদ্বয়ের এ পরিচয় পেয়ে মনে অারও একটু ভালো লাগা কাজ করল।
    স্বামী-স্ত্রী বা নারী-পুরুষ পরস্পর সহযোগী হয়ে যে কোনো ভালো কাজে ভূমিকা রাখতে পারে, এগিয়ে নিতে ও পূর্ণতা দান করতে পারে যে কোনো চেষ্টা, পদক্ষেপ ও কাজকে-এই দম্পতি তাঁর একটি সুন্দর উদাহরণ।

    বইটি প্রকাশ করেছে গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্স। দেশের অন্যতম সেরা প্রকাশনী। গার্ডিয়ান পাবলিকেশন সবসময় সেরা ও পাঠকপ্রিয় বই পাবলিশ করে। এরই ধারাবাহিকতায় গতবছর এ প্রকাশনীর “প্যারাডক্সিকাল সাজিদ” বইটি ২০১৭ এর বেস্টসেলার বুক ছিল।

    যে তেরোজন পরিশুদ্ধ মানব-মানবীর গল্প নিয়ে বইটি লেখা হয়েছে তারা বিভিন্ন ধর্ম ও বিশ্বাস থেকে ফিরে এসে ইসলামের অালোয় নিজেদের উদ্ভাসিত করেছেন। ইসলামের নির্মলতায় নিজেদের পরিশুদ্ধ করেছেন। তাদের কেউ কেউ ছিলেন ইহুদি,খৃষ্টান,হিন্দু,বৌদ্ধ,কমিউনিস্ট কিংবা সৃষ্টিকর্তার প্রতি চরম অবিশ্বাসী।
    মোটকথা, প্রায় সকল মত ও বিশ্বাস থেকে সত্য ধর্ম ইসলামের প্রতি প্রত্যাবর্তনকারী লোকদের বাস্তবকাহিনী এখানে রয়েছে।

    অাসলে,ইসলামবিহীন প্রতিটি মানবের অন্তরে একধরণের শূন্যতা, না পাওয়া, হাহাকার কিংবা হতাশা বিদমান। তারা পার্থিব সকল প্রয়োজনীয়তায় যতই ভরপুর কিংবা স্বয়ংসম্পূর্ণ হন না কেন তাদের অন্তর ইসলামমুক্ত হবার কারণে তৃপ্তি পেতে পারে না।
    সুতরাং অনেকে কাঙ্ক্ষিত সেই শান্তিলাভের অাশায় সত্যান্বেষণে ছুটে পড়েন।
    অার কেউ যদি সত্যলাভে সচেষ্ট হন,ভালোবাসেন তাহলে স্রষ্টা তাকে সহযোগিতা করেন এবং সত্যের দিশা দেন।

    অমানিশা,ভ্রান্তি হতে এসকল লোক যখন সত্যপ্রাপ্তির পিপাসায় তৃষ্ণার্ত ছিলেন অথবা কোনো পথে শান্তি না পেয়ে বেঁচে থাকার ইচ্ছাই হারিয়ে পেলছিলেন কিংবা জীবনের মানে খুজতে গিয়ে কোনো সন্তোষজনক ও গ্রহণযোগ্য উত্তর না পেয়ে বারবার পেরেশান হয়েছিলেন;তখনই তাদেরকে তৃপ্তির সহিত মুক্তি দিয়েছিল ইসলাম।তারা ফিরে পেয়েছেন চিরশান্তির পথের শান্তি। অার ইসলামে দূর হয়ে গেল তাদের সকল না পাওয়ার অশান্তি অার ক্লান্তি।

    প্রায় সবারই কাহিনীতে যে দিকটার মিল পেলাম তা হচ্ছে,মুসলমানদের অাচার-অাচরণ তথা মানবিক গুণাবলী তাদেরকে প্রথমে ইসলামের প্রতি অাগ্রহী করে তুলে। এবং ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞানার্জন ও পবিত্র কুরঅানের গভীর অধ্যয়নের পরে তারা ইসলামের প্রতি অাকৃষ্ট হয়েছিলেন। অতঃপর সত্য জেনে সত্য মনে ভালোবাসায়, পরম বিশ্বাস ও ভক্তিসহকারে তারা ইসলামকে গ্রহণ করেন। বিখ্যাত ব্রিটিশ নারী সাংবাদিক ইভন রিডলির কাহিনী দিয়ে বইটি শুরু করা হয়েছে-যিনি তালেবানের হাতে বন্দি হয়ে তালবানের সুন্দর ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে ইসলামের প্রতি ঝুকে পরেন এবং ইসলাম গ্রহণ করেন।

    বইটি সকল শ্রেণী ও ধর্মের লোকেরা পড়তে পারেন। হয়ত অন্যদের সত্যগ্রহণের গল্প অাপনাকে সত্যাগ্রহী ও সত্যগ্রহণে উৎসাহিত করবে।

    অাল্লাহ লেখকদম্পতিকে উত্তম প্রতিদান দান করুন,সে সাথে প্রকাশককেও…

  • Masud shorif says:

    দ্যা রিভার্টসঃ ফিরে আসার গল্প
    সামছুর রহমান ওমর (রূপান্তরকারী), কানিজ শারমিন (রূপান্তরকারী)
    গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্স, ফেব্রুয়ারি ২০১৮
    মূল্য: ৩৫০৳
    পৃষ্ঠাসংখ্যা: ২৪০
    রেটিং: ⭐⭐⭐⭐⭐

    ««« আ রিভার্ট অন দ্যা রিভার্টস »»»

    নিচের কোন শ্রেণির লোক ইসলামে ফিরে এলে সবচেয়ে বেশি অবাক হবেন?

    ইহুদি র‌্যাবাই?
    খ্রিষ্টান পাদ্রি?
    কমিউনিস্ট আন্দোলনের সক্রিয় নেতা?
    পপ স্টার?
    বাবরি মাসজিদের গম্বুজে আঘাত হানা প্রথম লোকটি?
    নাস্তিক?
    MTV’র ভিজে?
    তালেবান বন্দি?
    নাকি সুখ বলতে বর্তমান সমাজ যা বোঝায় তার সবকিছু পাওয়া একজন?

    অবাক হন, বা আদৌ অবাক না হন—ফিরে আসা অসংখ্য মুসলিমের মাঝে মাত্র ১৩ জন ফিরে আসা মুসলিমের জীবনের বাস্তব গল্প নিয়ে ‘দ্যা রিভার্টস’।

    পুরো বইটির অনুবাদ এত ভালো যে পড়ে একটি বারের জন্যও মনে হয়নি আমি কোনো অনুবাদ গ্রন্থ পড়ছি। মনে হচ্ছিল ‘সেবা প্রকাশনী’র কোনো রূপান্তর পড়ছি যেন। অনুবাদক দম্পত্তি অবশ্য একে রূপান্তরই বলেছেন। দীর্ঘদিন অনুবাদের সঙ্গে লেগে থাকার পর এ বইটি পড়ে মনে হয়েছে আমাকে তাদের কাছ থেকে নতুন করে অনুবাদ শিখতে হবে।

    আমরা যারা মুসলিম পরিবারে জন্ম নিয়েও ইসলামকে ভুলে গেছি, বা ভুলে যেতে চাই, তাদেরকে নতুন করে ভাবতে শেখাবে এ বই। যারা ইসলামের মতো মানিক হাতে পেয়েও মর্ম বোঝেন না, তাদেরকে নতুন করে রতন চেনাবে এ বই। প্রতিটি গল্পে পাঠক দেখবেন প্রত্যেকেই জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে জীবনের উদ্দেশ্য খুঁজছেন। লাগাতার তালাশ করে যাচ্ছেন। বহু ঘাট ঘুরে অবশেষে ইসলামে এসে স্বস্তি খুঁজে পেয়েছেন।

    প্রত্যেকের ফিরে আসার ঘটনাটা অনেক দীর্ঘ সময়ের পরিক্রমা। একদিন দা‘ওয়াহ পেয়ে রাতারাতি কেউ মুসলিম হয়ে যাননি। অনেকে তো সরাসরি দা‘ওয়া-ই পাননি। আবার ইসলামের মধ্যে এসেও দুচারদিনেই কেউ দাঁড়ি রাখা বা নিকাব পরা শুরু করে দেননি। সময় লেগেছে। ইসলামের বিধি আত্মস্থ করতে দিন-মাস-বছর কেটে গেছে। আমরা যারা অনলাইনে দা‘ওয়াহ দিয়ে চোখের পলকে মানুষের বিশ্বাস বদলে ফেলতে চাই এসব বাস্তব নজিরগুলো তাদের খুব কাজে আসবে।

    জাফর ইকবাল সেদিন একটা ঘটনা শেয়ার করেছিলেন তার স্ট্যাটাসে। উনার আদর্শের সঙ্গে আমার অনেক দ্বিমত থাকলেও সেদিনের তার কথাটি মনে লেগেছে। গল্পে-উপন্যাসে কেউ মারা গেলে, কারও দুঃখে দুখী হলে তার প্রভাব ক্ষণস্থায়ী। কিন্তু তাকে যেদিন এক মা তার সন্তানের মৃত্যুর কথা লিখে ইমেল করেছিলেন সেদিনের সেই কষ্ট তিনি ভুলতে পারেননি। নিছক গল্প আর জীবনের গল্পের মাঝে এটা সবচেয়ে বড় পার্থক্য।

    বইটির কাভারের ইমেজটির রেজোল্যুশন কম থাকায় ছবিটি খাঁজকাটা হয়ে গেছে। বিষয়টা দৃষ্টিকটু। ভেতরের পৃষ্ঠাসজ্জায় বেশ কিছু অনুচ্ছেদকে অযথা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুরো পৃষ্ঠার নান্দনিকতা নষ্ট হয়েছে এতে। খুব সম্ভবত কিছু গল্পকে নির্দিষ্ট কিছু পৃষ্ঠায় আঁটানোর জন্য এমন ঠাসাঠাসি। পাঠক হিসেবে বিষয়টা আমার টানা পড়ে যাওয়ার স্রোতে গাছের গুঁড়ি ফেলে দিয়েছে। আশা করব ‘গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্স’ মাথায় রাখবে এ ধরনের সূক্ষ্ম বিষয়গুলো। এ দুটো জিনিস ছাড়া পুরো বইটির মান ভালো। নিজে একজন রিভার্ট* বা ফিরে আসা মুসলিম বলে এ বইয়ের আবেদন আমার কাছে অনেক অনেক বেশি।

    * আমি অমুসলিম থেকে মুসলিম হইনি। মুসলিম থেকে মুক্তমনা ওয়েবসাইটের খপ্পড়ে পরে সংশয়ী হয়ে গিয়েছিলাম।

  • Adnan Mahmud says:

    #দ্যা_রিভার্টস: ফিরে আসার গল্প।
    রুপান্তর : Shamsur Rahman
    Kanij Sharmin Shithi
    প্রকাশক : গার্ডিয়ান প্রকাশনী।

    চরম ইসলাম বিদ্বেষী মানুষগুলো যদি ফিরে আসে ইসলাম ধর্মে, একজন মুসলিম হয়ে আপনার অনুভূতি কেমন হবে?? যারা ইসলাম এবং মুসলিম সম্পর্কে কুৎসিত ধারনা পোষন করতো। মুসলিম মানেই যারা বুঝতো সন্ত্রাসী, ইসলাম মানেই সন্ত্রাস বাদ। তারাই যখন আলোর মিছিলে শামিল!!
    বইটা মূলত ফিরে আসার গল্প নিয়ে। পৃথিবী বিখ্যাত ১৩ জন মহামানবের ফিরে আসার গল্প লেখা হয়েছে বইটিতে।

    যে ঘঠনাগুলো পাবেন:-

    আফগান যুদ্ধ কাভার করতে এসে তালেবানদের হাতে ধরা পড়লেন এক নারী সাংবাদিক।

    অন্যদিকে, ফিলিস্তিনের গাজায় এসে আটকে গেলেন এক ব্রিটিশ তরুণী। তারপর কী হলো তাদের?

    একজন খ্রিস্টান পাদ্রী, একজন ধার্মিক বৌদ্ধ, অনুশাসন মানা একজন হিন্দু যুবক আর মামার আমন্ত্রনে ফিলিস্তিনে ঘুরতে আসা পোলান্ডের এক ইহুদী তরুণ। চার ধর্মের চারজন। কেমন করে পাল্টে গেলেন সবাই?

    বাবরি মসজিদ নিজ হাতে ভেঙেছেন বলবির সিং। এক সময়ে যা নিয়ে অনেক গর্ববোধ করতেন। কিন্তু তার মনে কীসের এত ব্যথা আজ? বাবরি মসজিদ ভেঙে দেওয়া হাত আজ কেন মসজিদ গড়ার কাজে ব্যস্ত?

    লন্ডনের বুকে বেড়ে ওঠা তিন যুবক। টাকা-পয়সা, অর্থ-বিত্ত, খ্যাতির কোন অভাব নেই। তবুও শান্তি নেই মনে। শান্তির আশায় কত কী করে গেলেন! পেয়েছিলেন কী?

    আধুনিক আমেরিকার দুজন মানুষ। একজন অবিশ্বাসী নাস্তিক। অন্যজন সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের স্বপ্নে বিভোর। দুজনের জীবনে নাটকীয় পরিবর্তন এল। কিন্তু কী করে?

    MTV চ্যানেলের বিশ্ববিখ্যাত এক উপস্থাপিকা। পুরো ইউরোপের ঘরে ঘরে পরিচিত মুখ। একদিন দেখা হলো, পাকিস্তানের বিশ্বকাপ জয়ী ক্রিকেটার ইমরান খানের সাথে। তারপর?

    তারপর এক অদ্ভুত পরিবর্তন তাদের মধ্যে।

    চিন্তা দর্শন ও বাস্তব জীবনে পরিবর্তন আসতে পারে আপনার ও।

    বইটিকে এত চমৎকার করে সাজানো হয়েছে যে, প্রতিটি গল্প পড়েই মনে হচ্ছে প্রধান চরিত্র যেন আমার সামনে দাঁড়িয়ে গল্প বলছে। আমি তার নির্বাক শ্রোতা।
    একমিনিটের জন্যও মনে হয়নি এটি একটি অনুবাদ।
    নির্ভুল বানান, বাইন্ডিং, কাগজের মান সব কিছুই প্রশংসার দাবী রাখে।

    বইটিতে সব থেকে সুন্দর লেগেছে কমিউনিজমের হাত ধরে ড. আবু আমিনা বিল্লাল ফিলিপ্সের গল্পটি এবং ক্রিস্টিন বেকারের MTV থেকে মক্কা। প্রচন্ড ইসলাম বিদ্বেষী নারীবাদী বৃটিশ সাংবাদিক ইভন রিডলির ঘটনাও অবাক করে দিয়েছিল আমায়।

    ফিরে আসার গল্পে কেউ নাস্তিক, কেউ হিন্দু, বৌদ্ধ কেউ বা খৃষ্টান। কেউ ই রাতারাতি ইসলাম গ্রহন করেনি। অনেক পড়ালেখা, অনেক গবেষনা, দীর্ঘ সময় রিসার্চের পরেই তারা মুসলিম হয়েছেন। বইটি পড়ে আপনি বলতে বাধ্য হবেন ইসলামই একমাত্র সত্য এবং ত্রুটিমুক্ত ধর্ম।

    বইটি পড়ে নিজেকে অনেক গর্বিত, ধন্য মনে হয়েছে, একমাত্র সত্য ধর্মের ফিতরাত নিয়ে জন্ম গ্রহন করেছি।
    আল্লাহর কত বড় অনুগ্রহ!! শুকরিয়া প্রভু।
    কিন্তু আফসোস! আমরা মুসলিম হয়েও ইসলাম পালনে বেখেয়ালি। অথচ পৃথিবী বিখ্যাত তারকা রা সত্য খুঁজতে গিয়ে ইসলামে প্রবেশ করেছেন।।

    বইটি চিন্তা, দর্শন, এবং ভাবনার পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম। অসাধারণ একটি বই।

    রেটিং ★★★★★

  • Engr Md Atikur Rahman says:

    দ্যা রিভার্ট : ফিরে আসার গল্প – অনেক দিন পর বইটি হাতে নিয়ে পড়ার প্রতি একটা আকর্ষন অনুভব করলাম।পড়া শুরু করে শেষ না হওয়া অবদি স্বস্তি পাচ্ছিলাম না। শেষ করেও স্বস্তি পাচ্ছিলাম না ভাল লাগার কথাগুলো, মানুষের জীবন ওলট পালট হয়ে যাবার কথাগুলো, সর্বোপরি বইটির মাধুর্য নিয়ে কিছু না বলা পর্যন্ত।

    বিভিন্ন ধর্মের ১৩ জন মানুষ কিভাবে আলোর পথের সন্ধান পেল তার মর্মস্পর্শী কাহিনী মূলত এ বইটিতে স্থান পেয়েছে। ১৩ জনের সবাই নিজ নিজ পেশা বা অবস্থানে বিখ্যাত ছিলেন। এর মধ্যে ধর্মজাযজকও ছিলেন।

    ২ জন ব্রিটিশ নারী সাংবাদিক ও ১ জন খ্যাতনামা উপস্থাপিকার (MTv Icon) ইসলামের পথে আসাটা অনেক ঘটনাবহুল।জীবনে তাদেরকে যে কি পরিমান চ্যালেন্জ নিতে হয়েছে তা সত্যিই বিশ্ময়কর! ১৩ জনই যে পরিবেশ ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার মধ্যে থেকে ইসলামকে বেছে নিয়েছে তাদের জীবনে চলার পথ হিসাবে, তা সত্যিই ইসলামের এক অতুলনীয় সৌন্দর্য্য ক্ষমতার কারনে সম্ভব হয়েছে। সর্বোপরি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে হেদায়েতের ফায়সালা।

    একটা বিষয় মোটামুটি সবার মধ্যে থেকে পাওয়া যায় সেটা হলো – তাদের জীবনে ব্যাপক জনপ্রিয়তা, অঢেল অর্থ সম্পদ, সমাজে বিপুল সম্মান খ্যাতি, প্রচুর কর্মব্যস্ততা থাকা সত্বেও তাদের মনের গহীনে এক বিশাল শূন্যতা হাহাকার করে দেয়। অর্থাৎ দুনিয়ার ভোগ বিলাসে কোন কমতি না থাকলেও মনের শূন্যতা পূরনে তার ধর্ম, তার সোসাইটি সবই ব্যর্থ হয়েছে।

    প্রচুর কর্মব্যস্ততার মাঝে তারা জীবনের প্রকৃত অর্থ খোঁজার চেষ্টা করেছে। ছুটে গেছে নিজ ধর্মগুরুর কাছে, পাতা উল্টিয়ে দেখেছে নিজ ধর্মগ্রন্থে, খোঁজার চেষ্টা করেছে জীবনের অর্থ, কিন্তু তারা শুধুই নিরাশ হয়েছে। বার বারই তারা জীবনের প্রকৃত অর্থ খুঁজে ফিরে হয়রান হয়েছে। তবুও পায়নি। পেয়েছে, অবশেষে ইসলামের ছায়াতলেই।

    তাদের মন যখন সত্য আলো খুঁজতে ব্যাকুল হয়েছে , ঠিক তখনই ইসলামের ক্ষুদ্র কোন সৌন্দর্য্যে তাদের চোখ আটকে গেছে – তাদের বিবেক নাড়া দিয়েছে। মনের ভিতর স্বশব্দে ধ্বনিত হয়েছে, এইতো আমি পেয়ে গেছি! যা এতদিন ধরে খুঁজছিলাম!
    ইসলাম সম্পর্কে তাদের মারাত্মক নেতিবাচক ধারনাসমূহ বদলিয়ে যায়, ইসলাম সম্পর্কে পড়াশুনা করার পরই। ব্রিটিশ নারী সাংবাদিক ইভান, যিনি ২০০১ সালে তালেবানদের হাতে আটক হওয়ায় সারা বিশ্বে হৈচৈ পড়ে গিয়েছিল।৯ দিন আটক থাকার পর মুক্তি।ইসলামের সৌন্দর্যে অভিভূত হয়ে অতপর মুসলিম হয়ে যান। এরই মধ্যে ঘটে অনেক ঘটনা। এখানে তার কথার কিছু অংশ উল্লেখ করছি –
    “কয়েকবছর আগেও হিজাবধারী কোনো মহিলাকে দেখলে আমার মনে হতো, আহা বেচারি! কত নির্যাতিত আর পরাধীন অবস্থার মধ্যেই না আছে ! ঘর থেকে বাইরে আসতে তাদের কি কষ্টই না করতে হয়েছে !
    এখন আমি হিজাবধারী বোনদের দেখলে বোঝার চেষ্টা করি, এদের মধ্যে কে ডাক্তার, কে ইন্জিনিয়ার, কে আইনজীবি, কে শিক্ষক, কে পিএইচডি করছেন, কে এমফিল করছেন …কে তার পেশার পাশাপাশি তার পরিবার, সমাজ গড়তে সময় দিচ্ছেন। আমি এখন আর তাদের বাহ্যিক পোষাক দিয়ে বিচার করি না। ভাবি, পর্দার আড়ালের মানুষটি আসলে কেমন।”

    ইসলামের পথে পা বাড়িয়ে যখনই প্রকাশ্যে ঘোষনা দিয়েছে আমি মুসলিম , তখনই তার পরিবার, সোসাইটি, আত্বীয় স্বজন সব একসাথে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। মারাত্মক প্রতিকূল পরিবেশ তাকে মোকাবিলা করতে হয়েছে।তবুও তারা অটল থেকেছে তাদের বিশ্বাসে। মহান আল্লাহর একত্ববাদ থেকে তারা সরে যায়নি। ১৩ জনের অধিকাংশই এখনো বেঁচে আছেন এবং ইসলামের পথে কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের বক্তব্য অনলাইনে এখনো পাওয়া যায়।

    ১৩ জনের বিভিন্ন সময়ের সাক্ষাতকার, বিভিন্ন আর্টিকেল বা পত্র পত্রিকা থেকে সংগৃীত তখ্যাবলী নিয়ে মূলত বইট রচয়িত হয়েছে। বলতে পারেন, বইটি এক ধরনের অনুবাদ বা রুপান্তর। সামছুর রহমান ও কানিজ শারমিন এই বইটির রচয়িতা। তাদের লেখনীর হাত অনেক পরিপক্ক বলে মনে হয়েছে আমার কাছে। তাদের লেখার মধ্যে পাঠককে আকর্ষন করার মত অনেক উপাদান রয়েছে। যে কেউ পড়তে শুরু করলে আশা করি শেষ না করে স্বস্তি পাবেন না! তাদের দুজনের জন্য শুভ কামনা রইলো।

    বইট প্রকাশ করেছে – গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্স। বইটির প্রচ্ছদ আরেকটু আকর্ষনীয় করার পরামর্শ রইলো।

    আমি যা এতক্ষন লিখলাম তাকে বইয়ের রিভিউ বলে কি না জানি না । তবে কথাগুলো শেয়ার করতে ইচ্ছা করছিলো, তাই এলোমেলো কিছু লিখলাম —-। আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ কথা লিখা যেত, কিন্তু লেখার পরিধি অনেক বড় হয়ে যাবে বলে আপাতত এটুকুই।

  • Fahmida Isat says:

    এই বইটি আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে।

    • guardianpubs says:

      আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। ছড়িয়ে দিন প্রিয় বই প্রিয়জনদের কাছে। জাযাকাল্লাহ খাইরান।

  • Leave a Reply

    Your email address will not be published. Fields with * are mandatory.

    গার্ডিয়ান পাবলিকেশন © ২০১৭-১৮
    Developed by: Al-Amin Firdows